Press ESC to close

যাকাতের মাসায়েল

Post Updated at 16 Mar, 2026 – 11:58 AM

যাদের উপর যাকাত ফরয হয়

সুস্থমস্তিষ্ক, স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমান নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার ওপর যাকাত আদায় করা ফরয হয়। অসুস্থমস্তিষ্ক মুসলিম, নাবালেগ শিশুকিশোর, অমুসলিম এবং দাসদের  ওপর যাকাত ফরয নয়। -আদ্দুররুল মুখতার ২/২৫৯ বাদায়েউস সানায়ে ২/৭৯,৮২

যেসব জিনিসের উপর যাকাত ফরয হয়

এক. পাঁচ ধরনের সম্পদের ওপর যাকাত ফরয হয়। ১. সোনা, ২.রুপা, ৩.টাকা-পয়সা, ৪.পালিত পশু (নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী) এবং ৫.ব্যবসার পণ্য।

দুই. সোনা-রুপা যে অবস্থাতেই থাকুক, অলঙ্কার আকারে থাকুক এবং সে অলঙ্কার ব্যবহৃত হোক কিংবা না হোক, অলঙ্কার ছাড়া অন্য কোনোকিছু বানানো হোক, পোশাক বা অন্য কোনোকিছুতে কারুকাজ আকারে থাকুক, সর্বাবস্থায় তাতে যাকাত ফরয হবে।  তবে সোনা-রুপা ছাড়া অন্য কোনো মূল্যবান ধাতু বা পাথর, যেমন, হিরা, মণি-মুক্তা ইত্যাদি, এগুলো যদি ব্যবসার পণ্য না হয়, তবে সেগুলোর ওপর যাকাত ফরয হয় না। – মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৬১-৭০৬৫

সাদকায়ে জারিয়ায় অংশ নিতে ক্লিক করুন
আনসার হতে ক্লিক করুন

তিন. নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের বাইরে যদি কেউ নিসাব পরিমাণ টাকার মালিক হয় তাহলে তার ওপর যাকাত ফরয হয়। যেদিন ব্যক্তি নিসাবের মালিক হবে, পরবর্তী বছর সে দিন যদি তার মালিকানায় নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে যাকাতযোগ্য সকল সম্পদের যাকাত আদায় করতে হবে। নগদ টাকা, ব্যাংক ব্যালেন্স, ফিক্সড ডিপোজিট (এফডিআর), বন্ড বা সঞ্চয়পত্র—সবকিছুই যাকাতযোগ্য সম্পদ। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৭০৯১; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৭; রদ্দুল মুহতার ২/২৬২, ৩০০

চার. হজের জন্য, বাড়ি তৈরির কাজে, কিংবা সন্তানদের বিয়ের জন্য জমানো টাকারও যাকাত আদায় করতে হয়। নিসাবের মালিক হওয়ার পর থেকে যেদিন বছর পূর্ণ হবে, সেদিন এ সঞ্চিত টাকাও যাকাত আদায়যোগ্য অন্যান্য সম্পদের সঙ্গে যোগ করে যাকাতের হিসাব করতে হবে। এই সঞ্চিত অর্থ বা অন্য সম্পদের সাথে মিলে তা যদি নিসাব পরিমাণ হয় এবং এক বছর অতিবাহিত হয়, তবে যাকাত দিতে হবে। তবে বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই যদি টাকা খরচ হয়ে যায়, তাহলে আর যাকাত লাগবে না। – মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩২৫

পাঁচ. দোকানে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা সব মালই  ব্যবসার পণ্য। আর যেসব সম্পদ বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয় না, বরং অন্য কোনো প্রয়োজনে কেনা হয়, যেমন, ফ্যান-লাইট কিংবা সাজসজ্জার কোনোকিছু, সেগুলো ব্যবসার পণ্য নয়। শুধু ব্যবসার পণ্যের ওপরই যাকাত আসে। দোকানে থাকা অন্য আসবাবপত্র ইত্যাদির ওপর যাকাত আসে না। – মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, হাদীস ১০৫৫৭

ছয়. ভবিষ্যতে বিক্রি করা হবে- এ উদ্দেশ্যে কোনো কিছু কেনা হলে—চাই তা জমি বা ফ্ল্যাট জাতীয় স্থাবর সম্পত্তি হোক, কিংবা কাপড়, অলংকার, গাড়ি বা আসবাবপত্র জাতীয় অস্থাবর সম্পত্তি হোক—তা বাণিজ্যিক সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে এবং তার মূল্যের ওপর যাকাত দিতে হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১০৩, ৭১০৪

সাদকায়ে জারিয়ায় অংশ নিতে ক্লিক করুন
সাদকায়ে জারিয়ায় অংশ নিতে ক্লিক করুন

যাকাতের নিসাব

স্বর্ণের ক্ষেত্রে যাকাতের নিসাব সাড়ে সাত ভরি। আর রুপার নিসাব  সাড়ে বায়ান্ন ভরি। – সহীহ বুখারী, হাদীস ১৪৪৭; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৭৭, ৭০৮২

নগদ টাকা বা ব্যবসার মালের মূল্য যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান হয়, তবে যাকাতের নিসাব পূর্ণ হয়েছে বলে ধরা হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৬৭৯৭

সোনা, রুপা, ব্যবসার পণ্য বা নগদ টাকা আলাদাভাবে নিসাব পরিমাণ না থাকলেও সবগুলো মিলিয়ে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার দামের সমান বা তার বেশি হয়, তবে মোট সম্পদের ওপর যাকাত দিতে হবে।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৬৬, ৭০৮১

নিসাবের অতিরিক্ত সোনা-রুপা বা নগদ টাকা থাকলেও তার ওপর নির্দিষ্ট হারে যাকাত দিতে হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৩২; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৯৯

বছরের শুরুতে নিসাব পরিমাণ সম্পদ ছিল, পরে বছরের মাঝে আরও কিছু সম্পদ অর্জিত হলো। এক্ষেত্রে নতুন সম্পদকেও পুরাতন সম্পদের সাথে মিলিয়ে বছর শেষে একসাথে যাকাত দিতে হবে। নতুন অংশের জন্য আলাদাভাবে এক বছর পূর্ণ হওয়া জরুরি নয়।-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৬৮৭২

যাকাতের জন্য বছরের শুরু ও শেষে নিসাব পূর্ণ থাকা জরুরি। বছরের মাঝখানে সম্পদ কমে গেলে সমস্যা নেই; তবে যদি মাঝখানে সব সম্পদ শেষ হয়ে যায়, তবে পরবর্তীতে আবার নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার সময় থেকে নতুন বছর গণনা শুরু হবে। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭০৪২, ৭০৪৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০২

যে সব জিনিসের ওপর যাকাত নেই

নিজের ও পরিবারের খাবার, পোশাক, বসবাসের বাড়ি এবং যাতায়াতের বাহনের ওপর যাকাত নেই। প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত পোশাক বা জুতা থাকলেও তাতে যাকাত আসে না। – মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০২০৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৫

ঘরের আসবাবপত্র যেমন: খাট, আলমারি, ফ্রিজ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় হাঁড়ি-পাতিল বা থালা-বাসনের ওপর যাকাত নেই, তা যতই দামি হোক না কেন। তবে এগুলোতে সোনা-রুপার কাজ থাকলে সেই কারুকাজের যাকাত দিতে হবে। – মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৫৬০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৫

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আসবাবপত্র যা বিক্রির জন্য নয়, তাতে যাকাত নেই। তবে ফার্নিচারের দোকানে বিক্রির জন্য রাখা ফার্নিচার ‘বাণিজ্য-দ্রব্য’ হিসেবে যাকাতের আওতায় আসবে।  শিল্প কারখানার মেশিনের ওপরও যাকাত আসবে না। বরং বিক্রির উদ্দেশ্যে তৈরি সামগ্রী এবং কাঁচামালের ওপর যাকাত আসবে। যে ঘর বা দোকান ভাড়া দিয়ে টাকা উপার্জন করা হয়, সেসবের মূল্যেরও ওপরও যাকাত আসবে না। বরং নেসাবের মালিক হলে ভাড়া হিসেবে প্রাপ্ত টাকার ওপর যাকাত আসবে।

হারাম সম্পদ যাকাতযোগ্য নয়। বরং এর পুরোটাই সদকা করে দিতে হবে। ব্যাংক বা এ জাতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে যে সুদ দেয়া হয়, তাও সদকা করে দিতে হবে। এর কোনো যাকাত নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

- আমি মুসলিমস ডে এর কমেন্টের নীতিমালার সাথে একমত হয়ে পোস্ট করছি

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন ২

ট্যাগ সমূহ

সাইট হিট কাউন্টার

সর্বমোট পোস্ট ভিউ: ৫,১৬৩,২৬২

পোস্ট কপি করার অপশন বন্ধ রাখা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পোস্টের লিংক কপি করুন