
471 views
Post Updated at 16 Mar, 2026 – 12:01 PM
যাকাত যাদেরকে দেয়া যাবে
- যে ব্যক্তির যাকাতযোগ্য সম্পদ যেমন, টাকা-পয়সা, সোনা-রূপা, ব্যবসায়িক পণ্য এবং যাকাত আসে না এমন প্রয়োজন অতিরিক্ত সম্পদ যেমন, বসবাস ও খোরাকির প্রয়োজনে আসে না এমন জমি ও বাড়ি, প্রয়োজন-অতিরিক্ত সকল আসবাবপত্র মিলে যদি সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপার সমমূল্যের হয়ে যায়, তাকে যাকাত দেয়া যাবে না। যাকাত ফরয হওয়ার নেসাবের ক্ষেত্রে কেবল টাকাপয়সা, সোনা-রূপা ও ব্যবসায়িক পণ্যের হিসাব করতে হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে এগুলোর পাশাপাশি প্রয়োজন অতিরিক্ত স্থাবর-অস্থাবর যাবতীয় সম্পদই হিসাব করতে হবে। এ ব্যক্তির ওপর সদকাতুল ফিতর বা ফিতরা এবং কুরবানিও ওয়াজিব হবে। -ফাতাওয়া আলমগীরী, ৫/২৯২
- যার মালিকানায় এতটুকু সম্পদ নেই, তাকে যাকাত দেয়া যাবে।
- নেসাবের মালিক কোনো ব্যক্তি যদি এমন ঋণগ্রস্থ হয় যে, ঋণ পরিশোধ করার পর তার কাছে নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে না, তবে তাকেও যাকাত দেওয়া যাবে।
- নিসাব পরিমাণ সম্পদের অধিকারী কোনো ব্যক্তি সফরে এসে অভাবী হয়ে পড়েছে বা মাল-সামান চুরি হয়ে গেছে এমন ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যাবে। তবে এ ব্যক্তি শুধু প্রয়োজন পরিমাণ গ্রহণ করতে পারবে, এর বেশি নয়।
- উপযুক্ত ধার্মিক ব্যক্তিকে যাকাতের টাকা দেয়া অধিক উত্তম। তবে দীনদার নয় এমন কাউকে যাকাত দিলেও আদায় হয়ে যাবে। অবশ্য যদি প্রবল ধারণা হয়, যাকাতের টাকা নিয়ে সে তা কোনো গোনাহের কাজে ব্যয় করবে, তবে তাকে যাকাতের টাকা দেয়া জায়েয হবে না।
- যাকাত শুধু মুসলমানদের দেওয়া যাবে। অমুসলিমদের নফল সদকা দেওয়া গেলেও যাকাত দেওয়া যায় না।
- যাকাতের টাকা জনকল্যাণমূলক কাজে (রাস্তা, ব্রিজ ইত্যাদি নির্মাণ) ব্যবহার করা যাবে না। এটি সরাসরি হকদার ব্যক্তিকে মালিক বানিয়ে দিতে হবে। একইভাবে মসজিদ-মাদরাসা নির্মাণ করা, ইসলাম প্রচার, ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন-ভাতা দেওয়া, ওয়াজ মাহফিল করা, দ্বীনি বই-পুস্তক ছাপানো, ইসলামী মিডিয়া তথা রেডিও, টিভির চ্যানেল করা ইত্যাদি কাজেও যাকাতের টাকা দেয়া যাবে না।
- ভাই-বোন, চাচা-মামা, খালা-ফুফু বা অন্য আত্মীয়রা দরিদ্র হলে তাদেরকে যাকাত দেওয়া উত্তম।
- নিজের পিতা-মাতা, দাদা-দাদী, নানা-নানী ও উর্ধ্বস্তন কাউকে, একইভাবে নিজের ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাত্নি ও অধঃস্তন কাউকে যাকাত দেওয়া জায়েজ নেই। স্বামী-স্ত্রী একে অপরকে যাকাত দিতে পারবে না।
- কাজের লোক যদি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হয়, তবে তাকে যাকাত দেওয়া যাবে। অবশ্য তা বেতন বা ঈদ বোনাস হিসেবে দেওয়া যাবে না। বেতন-বোনাস হিসেবে যাকাতের টাকা দিলে তা আদায় হবে না।
ভুলবশত কাউকে যাকাত প্রদান
- কাউকে উপযুক্ত মনে করে যাকাত দেওয়ার পর যদি জানা যায় সে যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ছিল না, তবুও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। পুনরায় যাকাত দিতে হবে না। কিন্তু যাকাতগ্রহীতা যদি জানে যে, তাকে যাকাতের টাকা দেয়া হচ্ছে আর সে যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত নয়, তাহলে তার জন্যে এ টাকা নেয়া জায়েয হবে না। নিলেও তা ফিরিয়ে দেয়া আবশ্যক।
- যাকাত আদায়ের পর যদি জানা যায়—যাকাতগ্রহীতা অমুসলিম ছিল, তবে যাকাত আদায় হবে না। পুনরায় যাকাত দিতে হবে।
Leave a Reply