
Post Updated at 16 Mar, 2026 – 11:34 AM
শেয়ার মার্কেটের যাকাত
যারা শুধুমাত্র ব্যবসায়িক পণ্য হিসেবে শেয়ারের লেনদেন করেন, তারা যাকাত আদায় করবেন শেয়ারের মার্কেট ভ্যালু অনুযায়ী। তাদের যাকাতের বছর যেদিন পূর্ণ হবে, সেদিন শেয়ারবাজারে ওই শেয়ারের যে মূল্য থাকবে, সেই মূল্য হিসাব করেই যাকাত দিতে হবে।
আর যারা কোম্পানির ডিভিডেন্ট (লভ্যাংশ) পাওয়ার উদ্দেশ্যে শেয়ার কিনেছেন, তারা সেই কোম্পানির ব্যালেন্সশীট দেখে যাকাত পরিশোধ করবেন। এক্ষেত্রে ব্যালেন্সশীট দেখে কোম্পানির ফিক্সড এসেট্স (স্থায়ী সম্পদ)-এ তার শেয়ার অনুযায়ী যতটুকু অংশ আছে, ততটা যাকাতের হিসাব থেকে বাদ দিতে পারবেন। বাকি মূল টাকা ও কোম্পানি ঘোষিত লভ্যাংশ (নগদ, বোনাস শেয়ার ইত্যাদি)-এর যাকাত দিতে হবে।
উল্লেখ্য যে, এখানে শুধু শেয়ারের যাকাতের বিধান বলা হয়েছে, শেয়ার কেনা-বেচার শরয়ী হুকুম এখানে বর্ণনা করা হয়নি। কোনো কোম্পানির শেয়ার কিনতে চাইলে সে বিষয়ে আগে কোনো বিজ্ঞ মুফতীর কাছে জিজ্ঞাসা করে নিতে হবে। [সূত্র : মাসিক আলকাউসার, বর্ষ-১০, সংখ্যা-০৬, প্রকাশকালঃ জুন-জুলাই ২০১৪]
ব্যাংক গ্যারান্টি মানি
বর্তমানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিকিউরিটি হিসেবে ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান ও গ্রহণের চল আছে। এক্ষেত্রে ব্যাংকে রাখা টাকা একাউন্ট হোল্ডারের মালিকানায় থাকে এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তিনি এর সুদ/লাভও পান। তবে গ্যারান্টির মেয়াদকালে তিনি সেই টাকা তুলতে পারেন না। এ কারণে অনেকে এই টাকার যাকাত আসবে কি না সে বিষয়ে সংশয়ে থাকেন। অথচ ব্যাংক গ্যারান্টির টাকা নিঃসন্দেহে যাকাতযোগ্য। যতদিন এই টাকার ওপর একাউন্ট হোল্ডারের মালিকানা থাকবে, ততদিন অন্যান্য টাকার মতোই এই টাকার যাকাত দিতে হবে।
যাকাতের টাকা দ্বারা কর্মসংস্থান করে দেওয়া
অল্প অল্প করে যাকাতের টাকা বণ্টন না করে কোনো এক বা একাধিক দরিদ্র ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করার জন্য অথবা বসবাসের ঘর বা দোকান ইত্যাদি নির্মাণ বাবদ যাকাতের বড় অঙ্কের টাকা দিলেও যাকাত আদায় হয়ে যাবে। অবশ্য একজনকে যাকাতের এত বেশি টাকা দেওয়া সাধারণত মাকরূহ, যা গ্রহণ করার পর সে নিজেই নেসাবের মালিক হয়ে যায়। তবে এক্ষেত্রে একজন দরিদ্র ব্যক্তিকে একসাথে অনেক টাকা না দিয়ে তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে দেওয়া যেতে পারে। এতে সাথে সাথেই সে যাকাতের নেসাবের মালিক হবে না এবং তার প্রয়োজনও পূরণ হয়ে যাবে। অবশ্য এই পদ্ধতি খুব ব্যাপক হওয়া উচিত নয়।
যাকাত ট্যাক্স নয়
এ কথা মনে রাখা জরুরি যে, যাকাত কোনো ট্যাক্স নয়; বরং ইসলামের অন্যতম একটি রুকন, ধনীর ওপর গরিবের হক। তাই সরকার কোনো সম্পদের ট্যাক্স (শরীয়তের দৃষ্টিতে সেই ট্যাক্সের হুকুম যাই হোক) নিয়ে নিলেও, বাকি সম্পদ নেসাব পরিমাণ হলে তার যাকাত দিতে হবে।
Leave a Reply