
Post Updated at 16 Nov, 2025 – 12:10 PM
মাগরিবের ওয়াক্ত যখন শেষ হয়, ইশার ওয়াক্ত তখনই শুরু হয়। কিন্তু ইশার ওয়াক্ত শেষ হয় কখন, এ বিষয়টি একটু ব্যাখ্যাসাপেক্ষ।
ইশার ওয়াক্তকে আলেমগণ তিন ভাগে ভাগ করেছেন। এক. মুসতাহাব বা উত্তম সময়, দুই. জায়েয বা বৈধ সময়, তিন. মাকরূহ বা অপছন্দনীয় সময়।
মুসতাহাব সময়
ইশার নামাযের ক্ষেত্রে মুসতাহাব হলো- একটু বিলম্বিত করে পড়া। রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত এ বিলম্ব করা যেতে পারে। এর মধ্যে আদায় করলে তা মুসতাহাব ওয়াক্তে আদায় হয়েছে বলে ধর্তব্য হবে।
জায়েয সময়
রাতের প্রথম তৃতীয়াংশের পর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত সময়টুকু ইশার নামাযের জায়েয সময়। এ সময় পর্যন্ত ইশার নামায বিলম্বিত করা মুসতাহাবও নয়, মাকরূহ বা অপছন্দনীয়ও নয়। এটা জায়েয, বৈধ।
মাকরূহ সময়
মধ্য রাতের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত ইশার নামাযের মাকরূহ সময়। মাজুর ব্যক্তিরা এ সময় ইশার নামায আদায় করলেও কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু যারা মাজুর নয়, কোনো সংকট নেই যাদের, তাদের জন্যে এ সময় পর্যন্ত ইশার নামায বিলম্বিত করা মাকরূহ বা অপছন্দনীয়।
মোট কথা, ইশার নামাযের মূল সময় মাগরিবের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত থাকে। তবে রাতের প্রথম এক তৃতীয়াংশের মধ্যে তা আদায় করা মুসতাহাব, মধ্য রাত পর্যন্ত বিলম্বিত করা জায়েয, আর মধ্যরাতের পর কোনো ওজর ছাড়া বিলম্বিত করা মাকরূহ। এতে গোনাহ হবে। তবে কারও ওজর থাকলে ভিন্ন কথা।
হানাফী, মালেকী, শাফেয়ী, হাম্বলী – এ চার মাযহাবের প্রায় সকলেই এ ক্ষেত্রে একমত।
দলিল: সাহাবি ও তাবেঈদের কিছু বক্তব্য
মধ্য রাতের পর থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত সময়টুকু, যেটাকে আমরা ইশার নামাযের মাকরূহ ওয়াক্ত বলেছি, তাতে যদি কেউ ইশার নামায আদায় করে, তাহলে তা নামাযের মূল সময়ে আদায় করা হয়েছে বলে বিবেচিত হবে কিনা? না তা কাযা হয়ে গেছে বলে ধর্তব্য হবে? চার মাযহাবের গ্রহণযোগ্য বক্তব্য যদিও এটাই যে, এ নামায মূল সময়ে আদায় হয়েছে বলেই বিবেচিত হবে, তবুও এ নিয়ে কারও কারও সংশয় রয়েছে।
তাদের কথা হলো, মধ্যরাতের পর ইশার নামাযের সময় শেষ হয়ে যায়। মধ্যরাতের আগে যদি ইশার নামায কেউ পড়তে না পারে, তাহলে তা কাযা হয়ে যাবে।
এ জন্যে আমরা প্রথমেই সাহাবায়ে কেরামের কয়েকটি আছার উল্লেখ করছি, যা থেকে বোঝা যায়- ইশার নামাযের মূল সময় সুবহে সাদিক তথা ফজরের নামাযের পূর্ব পর্যন্ত।
এক.
হযরত উমর রা. আবু মূসা আশআরী রা.কে লিখে পাঠিয়েছিলেন :
صَلِّ الْعِشَاءَ أَيَّ اللَّيْلِ شِئْتَ وَلَا تَغْفُلْهَا
রাতের যে কোনো সময় ইশার নামায আদায় করে নাও। আর তা ভুলে যেও না। [ইমাম তাহাবী, শারহু মাআনিল আছার, হাদীস ৯৫৭, এ হাদীসের রাবীগণ সকলেই বিশ্বস্ত।]
ইমাম তাহাবী রহ. লিখেছেন : মধ্যরাতের পর পর্যন্ত ইশার নামায বিলম্বিত করাই হচ্ছে তা ভুলে যাওয়া।
হযরত উমর রা.এর এ বক্তব্য থেকে স্পষ্টই প্রতীয়মান হচ্ছে, ইশার নামাযের সময় রাতের শেষ পর্যন্ত থাকে।
দুই.
তাবেঈ উবায়দ ইবনে জুরাইজ হযরত আবু হুরায়রা রা.কে প্রশ্ন করেছিলেন :
ما إفراط صلاة العشاء
অর্থাৎ ইশার নামায ছুটে যাবে কখন? তিনি উত্তরে বলেছিলেন : সুবহে সাদিক হলে। [প্রাগুক্ত, হাদীস ৯৫৮, এ হাদীসটি সহীহ]
তিন.
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন :
وقت الظهر إلى العصر والعصر إلى المغرب والمغرب إلى العشاء والعشاء إلى الصبح
যোহরের সময় আসর পর্যন্ত, আসরের সময় মাগরিব পর্যন্ত, মাগরিবের সময় ইশা পর্যন্ত আর ইশার সময় ফজর পর্যন্ত। [আবদুর রাযযাক, আলমুসান্নাফ, হাদীস ২২২৬]
এ বক্তব্যগুলো যদিও সরাসরি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য নয়, কিন্তু শাস্ত্রীয় ভাষায় এ ধরনের হাদীসকে বলা হয়- مرفوع حكما অর্থাৎ মানের বিবেচনায় এগুলো নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্যের মতোই। কেননা, নামাযের ওয়াক্ত নিয়ে সাহাবী কিংবা পরবর্তী যে কেউ নিজের মনগড়া কোনো কথা বলতে পারেন না।
এ ক্ষেত্রে সাহাবীদের কোনো বক্তব্যের অর্থ হচ্ছে, তিনি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছ থেকে শুনেই বলেছেন। নিজের পক্ষ থেকে বলেননি।
তাবেয়ী আতা এবং ইকরিমা বলেছেন :
وقت العشاء إلى الفجر
ইশার নামাযের সময় ফজর পর্যন্ত। [ইবনুল মুনযির, আলআওসাত, হাদীস ৯৪২]
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি হাদীস উপরোক্ত আছারগুলোকে সমর্থন করে-
إنما التفريط على من لم يصل الصلاة حتى يجيء وقت الصلاة الأخرى
(নামাযের ক্ষেত্রে) শিথিলতা হলো, নামায এতটা বিলম্বিত করা যে অন্য নামাযের সময় এসে পড়ে। [সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৮১]
ইশার নামাযের শেষ সময় নিয়ে বরেণ্য ইমামগণের মত :
হানাফী মাযহাব
হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থ ‘আলবাহরুর রায়েক’-এ বলা হয়েছে :
وَالْعِشَاءُ وَالْوِتْرُ منه إلَى الصُّبْحِ
ইশা ও বিতির-এর নামাযের সময় ‘মাগরিবের’ পর থেকে ফজরের পূর্ব পর্যন্ত। [পৃ. 1/259]
وَأَفَادَ أَنَّ التَّأْخِيرَ إلَى نِصْفِ اللَّيْلِ ليس بِمُسْتَحَبٍّ وَقَالُوا إنَّهُ مُبَاحٌ وَإِلَى ما بَعْدَهُ مَكْرُوهٌ
… ইশার নামায মধ্যরাত পর্যন্ত বিলম্বিত করা মুসতাহাব নয়। বরং তা মুবাহ অর্থাৎ বৈধ। আর এর পর পর্যন্ত বিলম্বিত করা মাকরুহ। [পৃ. 1/260]
মালেকী মাযহাব
মালেকী মাযহাবের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘মাওয়াহিবু জালীল’-এ বলা হয়েছে :
ولا تختلف الأمة أن وقتها الاختياري ممتد واختلف في منتهاه فمشهور المذهب أنه إلى ثلث الليل كما جاء في حديث عمر وهذا قول مالك وابن القاسم وأشهب وقال ابن حبيب وابن المواز إلى نصف الليل وقد وردت الأحاديث بما يدل لكل واحد من القولين
ইশার ‘ইখতিয়ারি’ সময় যে একটু বিস্তৃত, এ নিয়ে কোনো মতবিরোধ নেই। ইখতেলাফ হয়েছে এ ইখতিয়ারি সময়ের শেষ সীমা নিয়ে। কেউ কেউ বলেছেন, রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত, কেউ বলেছেন, মধ্যরাত পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে এ সময়। তবে উভয় মতের পক্ষেই হাদীসের দলিল রয়েছে। [পৃ. ২/৩২, প্রকাশক : দারু আলামিল কুতুব]
হাম্বলী মাযহাব
হাম্বলী মাযহাবের বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আলইনসাফ’-এর উদ্ধৃতি :
ثم يذهب وقت الاختيار ويبقى وقت الضرورة إلى طلوع الفجر الثاني.
هذا المذهب وعليه جماهير الأصحاب وقطع به كثير منهم وقال في الكافي ثم يذهب وقت الاختيار ويبقى وقت الجواز إلى طلوع الفجر الثاني
(রাতের এক তৃতীয়াংশে)র পর ইশার নামাযের ইখতিয়ারি সময় শেষ হয়ে যাবে এবং ‘যরুরতের’ সময় বাকি থাকবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত। এটাই আমাদের মাযহাব। জুমহুরের বক্তব্য এমনই। তাদের অনেকেই তা স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছেন। আর ‘আলকাফী’ নামক গ্রন্থে রয়েছে : (রাতের এক তৃতীয়াংশের) পর ইখতিয়ারি সময় শেষ হয়ে যাবে এবং বৈধ সময় বাকি থাকবে সুবহে সাদিক পর্যন্ত।
[ইখতিয়ারি সময় বলে উদ্দেশ্য হলো, এ সময়ের মধ্যে ইশার নামায আদায় করে নেয়া উত্তম। আর যরুরতের সময় বলে উদ্দেশ্য হলো, কোনো ওযরের কারণে কেউ মধ্যরাতের আগে ইশার নামায আদায় করতে না পারলে সুবহে সাদিকের আগপর্যন্ত তার জন্যে সুযোগ রয়েছে ইশার নামায আদায় করার। তবে ওযর ছাড়া কারও জন্যে এ সময় পর্যন্ত ইশার নামায বিলম্বিত করা অন্যায়।]
এ গ্রন্থে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে :
لعل مراده أن الأداء باق
উপরের বক্তব্য দ্বারা উদ্দেশ্য হলো : সুবহে সাদিক পর্যন্ত সময়ের মধ্যে যদি কেউ ইশার নামায আদায় করতে পারে, তাহলে তা কাযা বলে বিবেচিত হবে না। [পৃ. ১/৩০৮, প্রকাশক : দারু ইহইয়াইত তুরাস আলআরাবী, বৈরুত]
শাফেয়ী মাযহাব
শাফেয়ী মাযহাবের একজন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব আল্লামা নববী রহ.। তিনি বলেছেন :
وأما وقت الجواز فيمتد إلى طلوع الفجر
(ইশার নামাযের) বৈধ সময় সুবহে সাদিক পর্যন্ত বাকি থাকে। [ফাতহুল বারী, ২/৫১, প্রকাশক : দারুল মারিফা, বৈরুত]
জামে তিরমিযীর আরবি ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘কিফায়াতুল মুগতাযী’তে বলা হয়েছে :
فالأئمة الأربعة متفقون على أن من صلى العشاء قبل طلوع الفجر يكون مؤديا لها ، ووافقهم داود الظاهري.
চার (মাযহাবের চার) ইমাম এ বিষয়ে একমত- সুবহে সাদিকের আগে যে ইশার নামায আদায় করতে পারবে, তার নামাযটি সময়মতো পড়া হয়েছে বলেই ধর্তব্য হবে। দাউদ যাহেরিও তাদের মতো একই মত পোষণ করতেন। [পৃ. ২/২৩১]
একটি সংশয়ের নিরসন
ইমাম বুখারী রহ. একটি অনুচ্ছেদে এভাবে শিরোনাম দিয়েছেন :
باب وقت العشاء إلى نصف الليل
ইশার নামাযের সময় মধ্যরাত পর্যন্ত।
ইমাম বুখারী রহ.এর এ শিরোনাম দেখেই কেউ কেউ বলে দেন- মধ্যরাতের পর আর ইশার নামাযের সময় থাকে না। কিন্তু সহীহ বুখারীর সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘ফাতহুল বারী’র আলোচনাটি এখানে খুবই প্রাসঙ্গিক। ব্যাখ্যাকার হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী রহ. শাফেয়ী মাযহাবের বড় ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি লিখেছেন :
في هذه الترجمة حديث صريح أخرجه مسلم من حديث عبد الله بن عمرو بن العاص في بيان أول الأوقات وآخرها وفيه فإذا صليتم العشاء فإنه وقت إلى نصف الليل قال النووي معناه وقت لأدائها اختيارا وأما وقت الجواز فيمتد إلى طلوع الفجر لحديث أبي قتادة عند مسلم إنما التفريط على من لم يصل الصلاة حتى يجيء وقت الصلاة الأخرى
এ শিরোনামের পক্ষে একটি স্পষ্ট হাদীস রয়েছে। সহীহ মুসলিমে আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা. এর একটি হাদীসে নামাযের শুরু ও শেষ ওয়াক্তের বিবরণ রয়েছে। সে হাদীসে বলা হয়েছে : যখন তোমরা ইশার নামায পড়বে, তো এর সময় মধ্যরাত পর্যন্ত। ইমাম নববী বলেছেন : এখানে ‘ইখতিয়ারি’ সময়ের কথা বলা হয়েছে। আর বৈধ সময় তো সুবহে সাদিক পর্যন্ত থাকে। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আবু কাতাদা রা.এর হাদীসটি এর সপক্ষে দলিল : শিথিলতার গোনাহ তো ঐ ব্যক্তির হবে, যে পরবর্তী নামাযের সময় আসার আগে পূর্ববর্তী নামাযটি আদায় করেনি। [পৃ. ২/৫২]
ইবনে তায়মিয়ার বক্তব্য :
ইমাম ইবনে তায়মিয়া রহ.ও এ মতই পোষণ করতেন- মধ্যরাত পর্যন্ত ইশার নামায আদায় করলে তা মাকরুহ হবে না। এরপর পর্যন্ত বিলম্বিত করলে মাকরুহ হবে, তবে কারও ওজর থাকলে সে বিলম্বিত করতে পারে এবং তা স্বাভাবিক ‘আদায়’ বলেই বিবেচিত হবে, কাযা নয়। ‘মাজমূউল ফাতাওয়া’র উদ্ধৃতি লক্ষ করুন :
وأما العشاء فلو أخروها إلى نصف الليل لم يكن ذلك مكروها . وتأخيرها إلى ما بعد ذلك لم يكن يفعله أحد ولا هو مما يفعله الأمراء .
ইশার নামায যদি মধ্যরাত পর্যন্ত বিলম্বিত করা হয়, তাহলে তা মাকরুহ হবে না। আর এর পর পর্যন্ত এ নামাযকে কেউ বিলম্ব করতেন না, এমনকি আমীর-উমারাগণও না। [পৃ. ২২/৮৬]
এ বক্তব্য থেকে স্পষ্টই বোঝা যায়, মধ্যরাতের পরও ইশার নামায পড়া যাবে, তবে তা মাকরুহ হবে।
وإذا طهرت قبل الفجر أن تصلي المغرب والعشاء
সুবহে সাদিকের পূর্বে যদি কোনো নারী পবিত্র হয় তাহলে সে মাগরিব ও ইশা আদায় করবে। [পৃ. ২২/৭৬]
(উল্লেখ্য, ইবনে তায়মিয়া রহ.এর মতে, ওজরের কারণে দুই নামাযকে একত্রিত করে এক ওয়াক্তে আদায় করা যায়। সে হিসেবেই তিনি বলেছেন, সুবহে সাদিকের আগেও যদি কেউ পবিত্র হয়, তাহলে সে মাগরিব ও ইশা উভয় নামায আদায় করবে। আমাদের আলোচ্য বিষয় (অর্থাৎ ইশার নামাযের সময় সুবহে সাদিক পর্যন্ত থাকা) এ মাসআলা থেকে সুস্পষ্ট ভাবেই প্রমাণিত হয়।
মধ্যরাত কখন হয়?
ইসলামী শরীয়ার দৃষ্টিতে মধ্যরাত বলতে বুঝানো হয় সূর্যাস্ত থেকে সুবহে সাদিকের মাঝখানের সময়কে। “সূর্যাস্ত থেকে ফজরের ওয়াক্ত শুরু”র সময় – একে দুই ভাগ করলে যে সময়টি পাওয়া যায় সেটিই মধ্যরাত।
উদাহরণ: সূর্যাস্ত যদি সন্ধ্যা ৬টায় হয় ও সুবহে সাদিক বা ফজরের ওয়াক্ত শুরু যদি ৫টায় হয়। তাহলে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৫টা পর্যন্ত ১১ ঘন্টা সময়কে রাত ধরা হবে। রাতের দৈর্ঘ্য ১১ ঘন্টাকে ২ ভাগ করে পাওয়া যায় সাড়ে ৫ ঘন্টা। তাহলে মধ্যরাত হবে সূর্যাস্ত থেকে সাড়ে ৫ঘন্টা পর। অর্থাৎ সাড়ে ১১টায় মধ্যরাত।
মধ্যরাত মানেই রাত ১২টা নয়
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, মধ্যরাত মানেই রাত ১২টা নয়। ঋতুভেদে বছরব্যাপী মধ্যরাতের সময় পরিবর্তন হয়। আমাদের দেশে প্রচলিত আছে মধ্যরাত মানে রাত ১২টা। কিন্তু বাংলাদেশে বছরের কখনোই রাত ১২টায় মধ্যরাত হয় না। বরং রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মাঝেই মধ্যরাত হয়ে থাকে।
Comments (12)
Robin Alam Akashsays:
November 12, 2025 at 9:03 PMমাশাআল্লাহ। আল্লাহ শায়েখকে নেক হায়াত দান করুক। আমিন। দীর্ঘদিন যাবত বিষয়টা নিয়ে দ্বন্দ্বে ভুগছিলাম যে আমাদের ওলামায়ে কেরাম বলেন ফজর পর্যন্ত সময় থাকে কিন্তু অ্যাপের মধ্যে সাড়ে ১১ টায় সময় শেষ হয়ে যায় কার সাথে যোগাযোগ করব কিভাবে এর সমাধান করব বুঝতে পারছিলাম না আলহামদুলিল্লাহ কোনো দ্বীনি ভাইয়ের মাধ্যমে এটা সমাধান হলো আল্লাহ তাকে জাযায়ে খায়ের দান করুক।
নূরে আলমsays:
November 15, 2025 at 6:33 AMমধ্য রাত বলতে রাতের কোন সময়কে বুঝানো হয়েছে, পরিস্কার করবেন প্লিজ।
Muslims Day Desksays:
November 15, 2025 at 12:29 PMমধ্যরাত কখন হয়? মধ্যরাত মানে রাত ১২টা নয়
ইসলামী শরীয়ার দৃষ্টিতে মধ্যরাত বলতে বুঝানো হয় সূর্যাস্ত থেকে সুবহে সাদিকের সময়ের মাঝখানের সময়কে। সূর্যাস্ত যদি সন্ধ্যা ৬টায় ও সুবহে সাদিক বা ফজরের ওয়াক্ত শুরু যদি ৫টায় হয়। তাহলে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৫টা পর্যন্ত ১১ ঘন্টা সময়কে রাত ধরা হবে। আর মধ্যরাত হবে সূর্যাস্ত থেকে সাড়ে ৫ঘন্টা পর অর্থাৎ সাড়ে ১১টা। ঋতুভেদে বছরব্যাপী মধ্যরাতের সময় পরিবর্তন হয়। উল্লেখ্য, আমাদের দেশে মধ্যরাত কখনোই রাত বারটায় হয় না।
মো. শরীফ মিয়াsays:
November 26, 2025 at 5:18 AMবিতিরের নামাজটা কোন সময় পড়া উত্তম শেষ রাতে তাহাজ্জুদের পর নাকি মধ্য রাতের আগে….
উত্তরটা জানাবেন প্লিজ
Muslims Day Desksays:
November 27, 2025 at 2:45 PMযদি তাহাজ্জুদে ওঠার সুযোগ বা অভ্যাস থাকলে তখন বিতর পড়াই উত্তম। তা না হলে ইশার পরই পড়ে নিতে পারেন।
Musa Arafisays:
December 4, 2025 at 5:21 PMMashaallah, ❤
ফাতিহাsays:
December 15, 2025 at 4:52 PMতাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার উত্তম সময় কয়টায় হবে বাংলাদেশে? ফজর নামাজের ৩০/৪০ মিনিট আগে কি তাহাজ্জুদ নামাজ পড়া যাবে?
Muslims Day Desksays:
December 15, 2025 at 10:16 PMরাতের শেষ ভাগে পড়া যেতে পারে। ফজরের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তাহাজ্জুদ পড়া যায়। ৩০-৪০ মিনিট আগেও পড়তে পারবেন।
কে. এম. মুরছালিন বিল্লাহ রিযওয়ানsays:
February 14, 2026 at 3:19 PMএই প্রশ্নটা দীর্ঘদিন মাথায় ঘুরছিলো। আলহামদুলিল্লাহ ব্লগটি পড়ে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারলাম।
jobaidasays:
March 2, 2026 at 5:34 AMkono karone tarawee na porte parle fajar er somoy ki pora jabe
মাওলানা শিব্বীর আহমদsays:
March 8, 2026 at 11:09 PMতারাবীর নামাযের কাজা নেই। ফজরের সময় তারাবীর ছুটে যাওয়া নামায পড়া যাবে না।
Sabbir Hosensays:
March 17, 2026 at 1:20 AMআলহামদুলিল্লাহ, এশার নামাজ পড়া নিয়ে অনেক দ্বিধায় থাকতাম। আজ তার সহীহ্ সমাধান পেলাম।
যাজাকাল্লাহ খায়রান। ❤️