
Post Updated at 8 Feb, 2026 – 7:34 PM
লিভারের সমস্যা থাকলে
লিভারের রোগে আক্রান্ত রোগীর রোজা রাখা সম্ভব কিনা তা নির্ভর করে রোগের ধরন ও তীব্রতার উপর। ভাইরাল হেপাটাইটিস বা জন্ডিসে আক্রান্ত রোগীদের সাধারণত ক্ষুধামান্দ্য, বমি বমি ভাব এবং শারীরিক দুর্বলতা থাকে। যদি এসব লক্ষণ তীব্র হয় এবং জন্ডিসের মাত্রা বেশি থাকে, তাহলে শিরাপথে স্যালাইন দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এই অবস্থায় রোজা রাখা যদি ঝুঁকিপূর্ণ হয় তাহলে কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম ও ডাক্তারের পরামর্শে রোজা না রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া যেতে পারে।
লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত রোগীরা বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। যদি খাবারে অনীহা, হজমের সমস্যা থাকলেও খেতে পারেন এবং খাবার হজম হয় তাহলে রোজা রাখা সম্ভব। তবে যখন পেটে বা পায়ে পানি জমে এবং মূত্রবর্ধক ওষুধ খেতে হয়, তখন পিপাসা বেড়ে যায় এবং রক্তে গ্লুকোজ কমে যেতে পারে। এই অবস্থায় রোজা রাখা ঝুঁকিপূর্ণ। লিভার ক্যান্সারের শেষ পর্যায়ে রোগীর পক্ষে রোজা রাখা সম্ভব হয় না কারণ তখন তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় থাকেন। এক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজনরা তার পক্ষ থেকে ফিদইয়া দেবেন।
পেপটিক আলসার রোগীর জন্য
পেপটিক আলসার রোগীরা সাধারণত খালি পেটে পেটের উপরিভাগে জ্বালাপোড়া, বুক জ্বালা, টক ঢেঁকুর এবং রাতে পেটব্যথা অনুভব করেন। এইচ২ ব্লকার বা প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর জাতীয় ওষুধ খেলে যদি ব্যথা সেরে যায় এবং ইফতার ও সেহরির সময় কোনো অসুবিধা না হয়, তাহলে রোজা রাখা সম্ভব। তবে যাদের কখনো রক্ত বমি হয়েছে বা কালো পায়খানা হয়েছে, তাদের রোজা রাখার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
হৃদরোগ ও রক্তচাপের রোগীদের জন্য
হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের সাধারণত রোজা রাখতে কোনো সমস্যা নেই। তবে যাদের সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, হার্ট ফেইলিওর আছে, হৃৎস্পন্দনে সমস্যা আছে অথবা শ্বাসকষ্টের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছেন, তাদের অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
হাঁপানি রোগীদের জন্য
হাঁপানি বা অ্যাজমা রোগীরা যদি ট্যাবলেট বা ইনহেলার ব্যবহার করে শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেন, তাহলে রোজা রাখতে কোনো বাধা নেই। শুধু ইফতার বা সেহরির সময় ওষুধ ব্যবহার করলেই চলবে। তবে যাদের তীব্র শ্বাসকষ্ট আছে এবং দিনে কয়েকবার ইনহেলার বা ওষুধ নিতে হয়, তাদের পক্ষে রোজা রাখা সম্ভব নয়। পরবর্তীতে তাদের কাফফারা দিতে হবে।
Leave a Reply