Post Updated at 29 Feb, 2024 – 11:24 PM

ওজুর ফরজসমূহ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এ  লেখাটি পড়ুন ওজুর ফরজসমূহ

ওজুর সুন্নত (সংক্ষিপ্ত)

  1. নিয়ত করা,
  2. বিসমিল্লাহ বলা,
  3. দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ধোয়া,
  4. মেসওয়াক করা,
  5. কুলি করা,
  6. নাকে পানি দেয়া,
  7. দাড়ি খেলাল করা,
  8. হাতের আঙ্গুলগুলো খেলাল করা,
  9. সমস্ত মাথা একবার মাসেহ করা,
  10. কান মাসেহ করা,
  11. পায়ের আঙ্গুলগুলো খেলাল করা,
  12. প্রতিটি অঙ্গ তিনবার করে ধোয়া।

[সূত্র : আদদুররুল মুখতার, ১/২২৬, ২৩০, ২৩২, ২৩৬, ২৩৮, ২৩৯, ২৪৩]

 

ওজুর সুন্নত সম্পর্কিত বিস্তারিত মাসায়েল

ওজুর নিয়ত

মাসআলা : ওজু শুদ্ধ হওয়ার জন্যে মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা জরুরি নয়। তবে ওজু শুরু করার সময়ই মন আল্লাহ তায়ালার দিকে রুজু হওয়া উচিত। মনে মনে চিন্তা করা উচিত, আল্লাহ তায়ালার সামনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার জন্যে কিংবা আল্লাহ তায়ালার পাক কালাম তেলাওয়াত করার জন্যে আমি ওজু করছি। এটাই ওজুর নিয়ত। ওজুর শুরুতে নিয়ত করে নিলে ওজুর সওয়াব পাওয়া যাবে। যে উদ্দেশ্যে ওজু করা হচ্ছে, এভাবে সে উদ্দেশ্যটির কথা তখন চিন্তা করা যেতে পারে। এতে সহজেই ওজুর সৌন্দর্য ও ওজুর প্রতি যত্ন বেড়ে যেতে পারে। যদি নিয়ত ছাড়া এমনিতেই কেউ ওজুর অঙ্গগুলো ধুয়ে নেয়, তাহলেও তার ওজু হয়ে যাবে। তবে ওজুর নিয়ত না করার কারণে ওজু করার সওয়াব পাবে না। [রদ্দুল মুহতার, ১/২২৪]

এক আমলের জন্যে ওজু করে তা দিয়ে অন্য আমল করা

মাসআলা : ওজু যে উদ্দেশ্যেই করা হোক, সে ওজু দিয়ে পরবর্তীতে অন্য সব আমলই করা যাবে। কুরআন তেলাওয়াত কিংবা জানাজার নামাজের জন্যে ওজু করলে, এমনকি কোনো নিয়ত ছাড়া ওজু করলেও, সে ওজু দিয়ে ফরজ নামাজ পড়তেও কোনো সমস্যা নেই।

ওজুর শুরুতে দুআ পড়া

মাসআলা : ওজুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা সুন্নত। কেউ চাইলে আউযুবিল্লাহও পড়তে পারে। [রদ্দুল মুহতার, ১/২২৭]

গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করা

মাসআলা : ওজু করার সময় মেসওয়াক করা সুন্নত। দাঁত পরিষ্কার করে এবং দাঁত ও মুখের জন্যে উপকারী এমন যে কোনো গাছের ডাল দিয়েই মেসওয়াক করা যেতে পারে। মেসওয়াকের সুন্নত আদায় হওয়ার জন্যে নির্দিষ্ট কোনো গাছের ডাল হওয়া জরুরি নয়। তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পিলু (এর আরবি নাম ‘আরাক’) গাছের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করতেন এবং এ গাছের মেসওয়াক ব্যবহার করা পছন্দও করতেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস ২৪৪]

ব্রাশ দিয়ে সুন্নত আদায় হবে?

মুখের পরিচ্ছন্নতার জন্যে অনেকেই ব্রাশ ব্যবহার করে থাকেন। ঘুমানোর আগে, সকালে নাস্তার পর, ভারি কোনো খাবারের পর কিংবা অন্য কোনো সময়। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু ব্রাশকে মেসওয়াকের নিশ্চিত বিকল্প বলা কঠিন। মেসওয়াক প্রতিবার ওজু করার সময় করা সুন্নত। কিন্তু প্রতিবার ওজুর সময় তো ব্রাশ করা হয় না—এটাই স্বাভাবিক। দ্বিতীয়ত, মুখের পরিচ্ছন্নতা এবং মেসওয়াকের উপকারিতা মেসওয়াক দিয়ে যতটা অর্জিত হয়, ব্রাশ দিয়ে তা হয় না। তাই সুন্নত আদায়ের জন্যে আমাদের মেসওয়াক ব্যবহারেই অভ্যস্ত হওয়া উচিত।

দাড়ি ধোয়া ও মাসেহ সংক্রান্ত বিধান

মাসআলা : কারও দাড়ি যদি এত ঘন হয়, যার ভেতর দিয়ে চেহারার চামড়া দেখা যায় না, তাহলে সেসব দাড়ির নিচের চামড়া ধোয়া জরুরি নয়। কিন্তু যদি দাড়ি পাতলা হয়, তাহলে চেহারার চামড়ায় পানি পৌঁছাতে হবে।

মাসআলা : দাড়ি যদি ঘন হয় তাহলে দাড়ির নিচের চামড়া ধোয়া জরুরি নয় ঠিক, কিন্তু চেহারার সীমার মধ্যে যতটুকু দাড়ি আছে সেগুলোর উপরিভাগ ধোয়া ফরজ। এতটুকুতে কেবল মাসেহ যথেষ্ট নয়। চেহারার সীমার বাইরে যে দাড়ি, তা ধোয়া জরুরি নয়। তবে এ অংশ মাসেহ করা সুন্নত।

মাসআলা : দাড়ি যদি পাতলা হয় তাহলে চামড়ায় পানি পৌঁছাতে হবে এবং চেহারার বাইরের দাড়ি ঘন দাড়ির মতোই মাসেহ করা সুন্নত।

[আদদুররুল মুখতার ও রদ্দুল মুহতার, ১/২১৫-২১৬]

দাড়ি খেলাল করা

মাসআলা : চেহারা ধোয়ার পর দাড়ি খেলাল করা সুন্নত। দাড়ি খেলাল বলে উদ্দেশ্য হলো হাতের ভেজা আঙ্গুল দাড়ির ভেতর প্রবেশ করানো।

হাত ধোয়ার পদ্ধতি

মাসআলা : ওজুতে হাত ধোয়ার সুন্নত পদ্ধতি হলো, আঙ্গুলের দিক থেকে শুরু করে কনুই পর্যন্ত ধোয়া। সাধারণত কোনো পাত্র থেকে পানি নিয়ে ওজু করলে এভাবেই হাত ধোয়া হয়। কিন্তু পানির টেপ থেকে ওজু করার সময় অনেকে কনুই থেকে ধোয়া শুরু করেন। এ বিষয়ে সতর্কতা কাম্য।

মাথা মাসেহ করার পদ্ধতি

মাসআলা : ওজুতে মাথার চার ভাগের এক ভাগ মাসেহ করা ফরজ আর পুরো মাথা একবার মাসেহ করা সুন্নত। মাথা মাসেহ করার সুন্নত পদ্ধতি হলো, দুই হাতের আঙ্গুল ও তালু মাথার অগ্রভাগে রেখে পেছন পর্যন্ত টেনে নেয়া, এরপর উভয় হাত আবার পেছন থেকে সামনের দিকে টেনে আনা। এভাবেই একবার মাথা মাসেহ সম্পন্ন হয়।

অঙ্গগুলো তিনবার করে ধোয়া

মাসআলা : ওজুর অঙ্গগুলো তিনবার করে ধোয়াই সুন্নত। ওজুর শুরুতে কব্জি পর্যন্ত দুই হাত ধোয়া, কুলি করা ইত্যাদিও তিনবার করে করা সুন্নত। এর চেয়ে বেশি ধোয়ার অভ্যাস করা উচিত নয়। আর তিনবারের বেশি ধোয়াকে উত্তম বা সওয়াবের কাজ মনে করে আমল করা গোনাহের কাজ। হ্যাঁ, যদি তিনবার ধোয়ার পরও কোনো জায়গায় পানি পৌঁছার ব্যাপারে সন্দেহ হয়, তবে সে জায়গাটুকু আবার ধুয়ে নেবে। কিন্তু শুধুই সন্দেহের ভিত্তিতে এমন করবে না। [শারহুল মুনিয়া, ২৬]

ধারাবাহিকতা রক্ষা করা

মাসআলা : ফরজ অঙ্গগুলোর উল্লিখিত ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ওজু করা সুন্নত। যদি কেউ এ ধারাবাহিকতা রক্ষা না করে ওজু করে, যেমন, আগে কনুই পর্যন্ত হাত ধোয়ার পর মুখ ধুইল অথবা পা ধোয়ার পর মাথা মাসেহ করল, তাহলে যদিও ওজু হয়ে যাবে, কিন্তু এমন করা সুন্নতের পরিপন্থী। [আদদুররুল মুখতার, ১/২৪৪]

এক অঙ্গ শুকানোর পূর্বে আরেক অঙ্গ ধোয়া

মাসআলা : অঙ্গ ধোয়ার পর তা শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বেই আরেক অঙ্গ ধোয়া উচিত। এর ব্যতিক্রম হলে ওজু হয়ে যাবে ঠিক, তবে সুন্নতের খেলাপ হবে। [আদদুররুল মুখতার, ১/২৪৫]

প্রতিটি অঙ্গ ভালোভাবে ধোয়া

মাসআলা : ওজুতে প্রতিটি অঙ্গই যেন ভালোভাবে ধোয়া হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বিশেষত শীতকালে যখন হাত-পায়ের চামড়া শুষ্ক থাকে, তখন যত্নের সঙ্গে ওজু না করলে কোথাও কোথাও শুকনো থেকে যেতে পারে। বিশেষত পায়ের গোড়ালি। তাই শীতকাল হোক আর গ্রীষ্মকাল হোক, যত্নের সঙ্গে পূর্ণরূপে ওজু করতে হবে।

ওজুর মাকরুহ বিষয় ও বিবিধ মাসায়েল জানতে এখানে ক্লিক করুন

Comments
  1. ইসলামের খেদমতে আপনাদের আ্যপ খুবই কার্যকর। এতো সুন্দর কার্যক্রমের জন্য ধন্যবাদ। ওজুর সুন্নতসমূহ নিয়ে এই ব্লগটি আমার অনেক কাজে এসেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

- আমি মুসলিমস ডে এর কমেন্টের নীতিমালার সাথে একমত হয়ে পোস্ট করছি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ
ক্যাটাগরি সমূহ
ট্যাগ সমূহ
error: অনুগ্রহ করে লেখাটি কপি করবেন না। লিংক শেয়ার করুন। ধন্যবাদ