Post Updated at 14 Jun, 2023 – 9:22 PM

হজ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ। হজই একমাত্র ফরজ ইবাদত, যেখানে শারীরিক ও আর্থিক―উভয় দিকের সম্মিলন ঘটেছে। পৃথিবীর যে কোনো স্থান থেকেই হোক, মক্কা মিনা আরাফা মুযদালিফার নির্দিষ্ট স্থানে এসেই হজ আদায় করতে হবে। এজন্যে প্রয়োজন হয় দীর্ঘ সফরের। মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ও লোকসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে হজপালনে নতুন কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে লক্ষণীয় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই আমরা এখানে উপস্থাপন করছি―

১. এয়ারপোর্টে গিয়ে ইহরাম বাঁধা

ইহরাম বাঁধার মধ্য দিয়েই হজের মূল কার্যক্রম শুরু হয়। যারা হজ কিংবা উমরা পালনের জন্যে মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হন, তাদের জন্যে নির্দিষ্ট মিকাত অতিক্রম করার পূর্বে ইহরাম বাঁধা জরুরি। (আর যাদের প্রথম গন্তব্য মদীনা, তারা ইহরাম করবেন না। তারা স্বাভাবিক কাপড় পরেই যাবেন। পরবর্তীতে মদীনা থেকে মক্কা যাওয়ার সময় তারা ইহরাম করবেন।)  স্বাভাবিক সময়ে করা যায় এমন অনেক কাজকর্মই ইহরামের পর নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে। একটা সময় ছিল, যখন হাজী সাহেবগণ দীর্ঘদিনের অবিরাম সফর শেষে মক্কা শরীফে গিয়ে হাজির হতেন। আমাদের এ অঞ্চল থেকে জাহাজে হজে যাওয়ার প্রচলন ছিল। কয়েক মাসব্যাপী দীর্ঘ হতো সে সফর। তখনকার রেওয়াজ ছিল―নির্ধারিত মিকাতে গিয়েই সফররত আল্লাহর মেহমানগণ ইহরাম বাঁধতেন। অবশ্য একেবারে নিজ ঘর থেকে ইহরাম পরিহিত অবস্থায় বের হওয়ারও রেওয়াজ ছিল। তবে যারা এমনটি করতেন, তারা দীর্ঘ সময় ও দীর্ঘ পথ সফরের পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েই তা করতেন। বর্তমানে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে কয়েক মাসের পথ অতিক্রম করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। বিমানের এই সফরে অতি অল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছা সম্ভব হয়েছে বিধায় একদিকে সফরের কষ্ট অনেকটুকু হালকা হয়েছে ঠিক, কিন্তু এর সাথে কিছু জটিলতাও যোগ হয়েছে। যেমন, আগের দীর্ঘ ও ধীরগতির সফরে মিকাতে যাত্রাবিরতি করে ইহরাম বেঁধে নেয়া যেত। কিন্তু আমাদের বিমান মিকাত অতিক্রম করেই নির্ধারিত এয়ারপোর্টে অবতরণ করে। ফলে মিকাতে যাত্রাবিরতি করা এবং সেখানে ইহরাম বাঁধা জটিল হয়ে পড়েছে। আবার যান্ত্রিক সভ্যতার এই যুগে মাঝেমধ্যেই যান্ত্রিক ত্রুটি আমাদেরকে চরম ভোগান্তিতে ফেলে। এর ফলে বিমানের সফর বিলম্বিত হয়। এই বিলম্ব কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত হতে পারে। তাই যদি কেউ ঘর থেকে ইহরাম বেঁধে বের হয়, তাহলে অনাকাঙ্ক্ষিত এই বিলম্বের কারণে সফরের শুরুতেই তিক্ততার শিকার হতে পারে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ইত্যাদি আনুষ্ঠানিকতা সেরে যখন ফ্লাইট সম্পর্কে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া যায়, তখন ইহরাম বাঁধাই নিরাপদ। উল্লেখ্য, সেলাইবিহীন কাপড় পরার নামই ইহরাম নয়। বরং ইহরাম হচ্ছে হজের নিয়ত করে তালবিয়া (লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক …) পড়া। তাই এখনও যে কেউ বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময়ই সেলাইবিহীন কাপড় পরে নিতে পারেন। এরপর বিমানবন্দরের ভেতরে গিয়ে ইহরাম বাঁধতে পারেন।

হজের ফ্লাইটগুলোতে সাধারণত মিকাত অতিক্রম করার আগে সতর্ক করা হয়। যাদের ইহরাম বাকি, তাদের ইহরাম করে নিতে বলা হয়। কিন্তু ঐ সময়ের জন্যে অপেক্ষা করা ঠিক হবে না। সতর্কতামূলক বিমানে ওঠার আগে কিংবা বিমানে উঠেই ইহরাম করে নিন।

২. সেলাইবিহীন কাপড়ের জন্যে ইহরামে বিলম্বিত না করা

কেউ কেউ মিকাতে পৌঁছে ইহরামের আশায় থাকেন এবং স্বাভাবিক জামাকাপড় পরেই বিমানে ওঠে যান। কিন্তু যখন মিকাত অতিক্রম হওয়ার সময় হয়, তখন হয়তো মনে পড়ে―ইহরামের কাপড় তো সঙ্গে নেই। কিংবা হতে পারে, বিমানে ইহরামের কাপড় পরার পরিবেশ নেই। ফলে তারা ইহরামকে বিলম্বিত করেন। এটি একটি মারাত্মক ভুল। মনে রাখতে হবে, যারা মিকাতের বাইরে থেকে হজ করতে যান, প্রথম গন্তব্য যদি মক্কা হয় তবে তাদেরকে অবশ্যই ইহরাম পরিহিত অবস্থায় মিকাত অতিক্রম করতে হবে। অন্যথায় দম দিতে হবে। যদি কেউ অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে এ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে যান, তাহলে তিনি অবশ্যই মিকাত অতিক্রম করার পূর্বেই ইহরামের নিয়ত করে তালবিয়া পড়ে নেবেন। এবং বিমান থেকে নেমে ইহরামের কাপড় পরবেন। আর ইহরাম অবস্থায় এ সময়টুকুতে সেলাইযুক্ত কাপড় পরে থাকার কারণে সদকায়ে ফিতর পরিমাণ সদকা করে দিলেই হবে। অবশ্য ইহরামের পর থেকে যদি সেলাই করা কাপড় ১২ ঘণ্টা সময় পরা থাকে, তবে দম দিতে হবে।

বর্তমানে হজক্যাম্প কিংবা এয়ারপোর্টে প্রবেশের পর ইমিগ্রেশনের শুরুতেই লাগেজ জমা দিয়ে দিতে হয়। হাতে থাকে শুধুই হাতব্যাগ। লাগেজ পাওয়া যাবে সৌদি এয়ারপোর্টে পৌঁছে ওখানকার ইমিগ্রেশনসহ যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পর। আর যারা হজযাত্রী, এখন তাদের সৌদি আরবের ইমিগ্রেশনও বাংলাদেশের এয়ারপোর্টেই হয়ে যায়। তাই দীর্ঘ সময় তাদের এয়ারপোর্টে অবস্থান করতে হয়। আবার তারা শুরুতেই যে লাগেজ জমা দিয়ে থাকেন, তা তাদের হাতে আসে মক্কা মুকাররমার হোটেলে পৌঁছার পর। তাই যারা বাড়ি থেকে ইহরামের কাপড় না পরে রওয়ানা দেন, তারা অবশ্যই খুব যত্নের সঙ্গে ইহরামের কাপড় নিজের হাতব্যাগে নিয়ে নিন। এরপর সুবিধামতো সময়ে কাপড় পরিবর্তন করে ইহরামের নিয়ত করুন।

৩. নামাজে যত্নবান থাকা

সফরের পুরো সময় নামাজের প্রতি যত্নবান থাকা আবশ্যক। বিশেষভাবে এয়ারপোর্টে প্রবেশের পর থেকে বিমানে ওঠা পর্যন্ত, বিমানে ওঠার পর থেকে বিমান থেকে নামা পর্যন্ত, বিমানবন্দর থেকে পরবর্তী গন্তব্যে পৌঁছা পর্যন্ত, মক্কা থেকে মদীনায় ও মদীনা থেকে মক্কায় যাতায়াতের সময় এবং সর্বশেষ দেশে ফেরার সময় নামাজ আদায়ে সতর্ক থাকতে হবে। সামান্য অসতর্কতায় নামাজ কাজা হয়ে যেতে পারে। যদি হজের সফরে অসতর্কতাবশত এক ওয়াক্ত নামাজও কাজা হয়ে যায়, তাহলে এর চেয়ে বঞ্চনার আর কী হতে পারে! এজন্যে যারা গাইড বা মুআল্লিম হিসেবে কাফেলায় থাকেন, তাদের বিশেষ সচেতনতা জরুরি।
বিমানে থাকাবস্থায় নামাজের ঘোষণা হয়। সৌদি এয়ারলাইন্সের বিমানে নামাজের জন্যে আলাদা জায়গা থাকে। সেখানে যে কেউ গিয়ে সহজে স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ আদায় করতে পারেন। আর বাংলাদেশ বিমানে নামাজের আলাদা জায়গা থাকে না। সেখানে হয়তো বিমানের পক্ষ থেকে সিটে বসেই নামাজ পড়ে নেয়ার কথা বলা হতে পারে। স্থানসংকট ও নিরাপত্তাজনিত কারণেই এমনটি বলা হয়। বিমানে কিছু ফাঁকা জায়গা থাকে। সেসব জায়গায় জায়নামাজ বা অন্য কোনো পবিত্র কাপড় বিছিয়ে সহজেই দাঁড়িয়ে যথানিয়মে রুকু-সিজদা করে নামাজ পড়া যায়। এক-দুইজন করে সেখানে নামাজ পড়তে গেলে বিমানের কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও সাধারণত আপত্তি করা হয় না। যদি এভাবে নামাজ পড়া সম্ভব হয়, তাহলে তো ভালো। যদি এমন হয়, দাঁড়ানো সম্ভব নয় কিন্তু বসে বসে স্বাভাবিক সিজদা করে নামাজ পড়া যাবে, তবে তাই করতে হবে। এবং এ নামাজ পরে আর কাজা করতে হবে না। কিন্তু যদি এভাবে বসেও নামাজ পড়া সম্ভব না হয়, তাহলে সিটে বসেই ইশারায় নামাজ পড়ে নিতে হবে এবং পরবর্তীতে এ নামাজ সতর্কতামূলক কাজাও করতে হবে।
হাজী সাহেবদের মক্কা থেকে মদীনায় ও মদীনা থেকে মক্কার সফরে প্রায় দশ-বারো ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এ সফরে সাধারণত জোহর আসর ও মাগরিব―এ তিন ওয়াক্ত নামাজ ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। ড্রাইভারকে বলে যাত্রাবিরতি করে সহজেই এ নামাজগুলো আদায় করে নেয়া যায়। মনে রাখবেন, এ নামাজগুলো যথাসময়েই আদায় করতে হবে।

৪. ইহরাম অবস্থায় বায়তুল্লাহ স্পর্শ করা

ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার করা, এমনকি স্পর্শ করাও নিষেধ। বায়তুল্লাহ শরীফের গায়ে ও গিলাফে এবং হাজরে আসওয়াদে সুগন্ধি দেয়া থাকে। কিন্তু আবেগের বশবর্তী হয়ে অনেকে ইহরাম অবস্থাতেই বায়তুল্লাহ স্পর্শ করেন। এ থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।

৫. মাকামে ইবরাহীমের পেছনে তওয়াফের নামাজ

সাত চক্কর তওয়াফের পর দুই রাকাত নামাজ পড়া জরুরি। এই দুই রাকাত নামাজ মাকামে ইবরাহীমকে সামনে রেখে পড়া সুন্নত। অর্থাৎ এমনভাবে দাঁড়ানো যেন মাকামে ইবরাহীম ও বায়তুল্লাহ―উভয়ই সামনে থাকে। কিন্তু যখন তওয়াফকারীর সংখ্যা বেশি থাকে, তখন সেখানে নামাজ পড়লে তওয়াফকারীদের সমস্যা হয় এবং নামাজের একাগ্রতাও বিনষ্ট হয়। তাই মাকামে ইবরাহীম বরাবর একটু পেছনের দিকে সরে গিয়ে এমনকি মাতাফের একেবারে শেষদিকে নামাজ পড়লে সহজেই অন্যদেরকে এ কষ্ট দেয়া থেকে বিরত থাকা সম্ভব। বরং যদি পুরো মাতাফ জুড়েই ভিড় থাকে, তাহলে মসজিদে হারামের যে কোনো জায়গায় এই দুই রাকাত নামাজ পড়ে নেওয়াই যথেষ্ট।

৬. মিনার পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ

ইহরাম বাঁধার পর হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় মিনা থেকে। মিনায় ৮ জিলহজ জোহর থেকে ৯ জিলহজ ফজর পর্যন্ত―এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া সুন্নত। কিন্তু বর্তমানে এজেন্সির লোকেরা হাজী সাহেবদেরকে সাধারণত ৭ জিলহজ রাতেই মিনায় নিয়ে যান এবং ৮ জিলহজ ফজর থেকে ইশা পর্যন্ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মিনায় পড়ে ৮ জিলহজ দিবাগত রাতেই আরাফার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এতে মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সুন্নত আদায় হবে না। তাই যদি সম্ভব হয় তাহলে ৯ জিলহজ ফজরের নামাজ পড়েই মিনা থেকে আরাফার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া উচিত। অবশ্য যদি পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকে কিংবা অভিজ্ঞ কোন সঙ্গী না থাকে অথবা সাথে মহিলা শিশু বা কোনো মাজুর ব্যক্তি থাকে, তবে কাফেলা যখন যাবে তখনই চলে যাওয়া উচিত। কাফেলা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া ঠিক হবে না।

৭. মিনায় জায়গার সংকীর্ণতা

মিনায় সাধারণত যে তাবু নির্ধারিত থাকে, তাতে প্রত্যেকের জন্যেই বিছানার ব্যবস্থা থাকে। কিন্তু বিছানাগুলো যে মাপে তৈরি, তাতে স্বাভাবিকভাবে শোয়া খুবই কষ্টকর। এ অবস্থা দেখে অনেকে ঝগড়া ও গালিগালাজ শুরু করে দেয়। অথচ এ মিনা থেকেই হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। আর শয়তান সুযোগ খুঁজতে থাকে, যেন শুরুতেই এ মহান আমলটিকে প্রাণহীন করে দেয়া যায়। আল্লাহর অনেক বান্দা এমন রয়েছেন, যারা নিজেদের জায়গাটুকু অন্যদেরকে ছেড়ে দিয়ে তাবুর বাইরে রাত কাটিয়ে দেন। যেভাবেই হোক, একসময় সকলেই জায়গা পেয়ে যায়। তাই ধৈর্যহারা হয়ে শয়তানের শিকার যেন না হতে হয়―এ বিষয়ে সচেতনতা জরুরি।

৮. মিনার তাবু যদি মুযদালিফায় পড়ে

বর্তমানে আল্লাহর ঘরের এই মেহমানদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে মিনায় সকলের জন্যে তাবু স্থাপন করা সম্ভব হয় না। ফলে মিনা সংলগ্ন মুযদালিফার মাঠেও কিছু তাবু থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মুযদালিফার মাঠে স্থাপিত এই তাবুগুলোও মিনার তাবু হিসেবেই বিবেচিত হবে। তাই এ নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

৯. আরাফায় সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান

৯ জিলহজ আরাফার মাঠে অবস্থান করা হজের প্রধান ফরজ। দুপুর (অর্থাৎ সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ার পর) থেকে অবস্থানের সময় শুরু হয়। আর সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করা আরাফায় অবস্থান করা ওয়াজিব। যদি কেউ দুপুর হয়ে যাওয়ার পর আরাফার মাঠে প্রবেশ করে তাহলেও তার ফরজ আদায় হয়ে যাবে। তবে দুপুর হওয়ার আগে কিংবা পরে―যখনই কেউ আরাফায় প্রবেশ করে, সূর্যাস্তের পূর্বে আরাফার মাঠ ত্যাগ করা বৈধ নয়। কিন্তু অনেককে দেখা যায়, আসরের পরই আরাফার মাঠ ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। বাসে ওঠা নিয়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। এতে দোয়া-কান্নাকাটির পরিবেশ ও রুচি―দুটোই নষ্ট হয়। অথচ এই সময়টিই দোয়ার জন্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উপযুক্ত।

১০. মুযদালিফায় যাওয়ায় বিলম্ব হলে পথেই নামাজ পড়ে নেয়া

আরাফার পরবর্তী গন্তব্য মুযদালিফা। সূর্যাস্তের পর আরাফা থেকে রওনা হয়ে মুযদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও ইশার নামাজ একত্রে পড়তে হয়। হেঁটে গেলে ঝুঁকিমুক্তভাবেই মুযদালিফায় গিয়ে রাত যাপন করা যায়। কিন্তু গাড়িতে গেলে যানজটের কারণে কখনো কখনো মুযদালিফায় পৌঁছার পূর্বেই রাত শেষ হয়ে যাওয়ার আশংকা দেখা দেয়। এ আশংকা সৃষ্টি হলে রাত শেষ হওয়ার পূর্বে পথেই মাগরিব ও ইশার নামাজ পড়ে নিতে হবে।

১১. কুরবানির টাকা ব্যাংকে জমা দেয়া

কুরবানি হজের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যারা ‘হজে তামাত্তু’ কিংবা ‘কিরান’ করেন, তাদের জন্যে কুরবানি করা ওয়াজিব। কিন্তু কোনো কোনো কাফেলাপ্রধানের বিরুদ্ধে কুরবানির টাকা খেয়ানত করার মতো চরম অভিযোগ ওঠে। এ তিক্ত পরিস্থিতির কারণে মুয়াল্লিম ও কাফেলাপ্রধানদের অনেকেই কুরবানির দায়িত্ব নেন না। বরং তা হাজীদের নিজেদের দায়িত্বে ছেড়ে দেন। হাজী সাহেবগণ তখন আবার যেখানে সেখানে যোগাযোগ করে কোনো রকম বিশ্বস্ততা ও নিশ্চয়তা ছাড়াই সরলমনে যে কাউকে দায়িত্ব দেন। আত্মসাতের অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধেও।
সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে ব্যাংকে কুরবানির টাকা জমা নেয়া হয়। টাকা জমা নেয়ার সময় কুরবানির সময় উল্লেখ করে একটি স্লিপ দেয়া হয়। তবে এতেও কিছু জটিলতা রয়েছে। ১০ জিলহজ মুযদালিফা থেকে যাওয়ার পর তিনটি আমল করতে হয়―প্রথমে কংকর নিক্ষেপ করা, এর পর কুরবানি, সবশেষে মাথা কামিয়ে হালাল হওয়া। আমাদের হানাফি মাযহাবের ফুকাহায়ে কেরামের বক্তব্য অনুসারে এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করা জরুরি। ধারাবাহিকতা ভঙ্গ হলে দম দিতে হবে। কিন্তু যারা ব্যাংকের কুরবানি ব্যবস্থাপনার সাথে যুক্ত তাদের নিকট এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা জরুরি নয়। আবার তারা কুরবানির সময় লিখে দিয়ে যে স্লিপ সরবরাহ করে, বাস্তবে কুরবানি হতে হতে এর চেয়ে দেরিও হয়ে যেতে পারে।
এজন্যে যারা নিজে কিনে কুরবানি করতে পারেন কিংবা হারামে অবস্থানরত নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত কাউকে দিয়ে কুরবানি করাতে পারেন, তাদের জন্যে এটাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। আর যদি নিজে করতে না পারেন কিংবা এমন বিশ্বস্ত কাউকে না পাওয়া যায়, তাহলে ব্যাংকে টাকা জমা দেয়াই অধিক নিরাপদ। তবে সতর্কতামূলক স্লিপে লিখে দেয়া সময়ের চেয়ে একবেলা বা ছয় ঘণ্টা দেরি করে মাথা হলক করা উচিত। আর যদি কোনো সময় উল্লেখ করা না থাকে, তবে প্রথম দিন সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করে মাথা মুণ্ডানো উচিত।

 

 

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

- আমি মুসলিমস ডে এর কমেন্টের নীতিমালার সাথে একমত হয়ে পোস্ট করছি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ
ক্যাটাগরি সমূহ
ট্যাগ সমূহ
error: অনুগ্রহ করে লেখাটি কপি করবেন না। লিংক শেয়ার করুন। ধন্যবাদ