Press ESC to close

নামাজের ধারাবাহিক বিবরণ (নামাজ পড়ার নিয়ম)

Post Updated at 25 Jan, 2025 – 12:17 PM

নামায শুরু করার সময়

নিয়ত : নামাযের শুরুতে নিয়ত করা জরুরি।  তবে মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা জরুরি নয়। মনে মনে নিয়ত করাই যথেষ্ট। নিয়ত করুন- কোন নামায পড়ছেন, তা ফরয ওয়াজিব সুন্নত না নফল। ইমামের পেছনে হলে সেটিও নিয়ত করতে হবে।

সাহরি, ইফতার ও নামাজের সময়সূচীর জন্য ডাউনলোড করুন মুসলিমস ডে অ্যাপ

তাকবিরে তাহরিমা : নিয়তের পর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে নামায শুরু করতে হবে। একে তাকবিরে তাহরিমা বলে। 

তাকবির বলার সময় এমনভাবে হাত তুলুন, যেন বৃদ্ধাঙ্গুলি কানের লতি বরাবর হয়। 

একটি ভুল সংশোধন : হাত তোলার সময় হাতের আঙ্গুল ও কব্জি কেবলামুখী করে রাখা সুন্নত। কেউ কেউ দুই হাতের কব্জি কেবলামুখী করে রাখার পরিবর্তে কানের দিকে ফিরিয়ে রাখে। কেউ আবার হাত দিয়ে কান ঢেকেই ফেলে। কেউ কান পর্যন্ত হাত উঠানোর পরিবর্তে একটু ইশারা করে। কেউ কানের লতি হাত দিয়ে ধরে। এগুলো সবই সুন্নত-পরিপন্থী। এসব থেকে বেঁচে থাকা উচিত।  

হাত বাঁধা : তাকবীর বলে হাত বাঁধবে। বাম হাতের কব্জিকে ডান হাত দিয়ে ধরে নাভির নীচে রাখবে। ডান হাতের কনিষ্ঠাঙ্গুলি ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে বাম হাত চেপে ধরবে আর অবশিষ্ট তিন আঙ্গুল বাম হাতের বাহুর উপর বিছিয়ে রাখবে।

নামায শুরু করার পর

দাঁড়ানো অবস্থায়

ছানা পড়া : তাকবিরে তাহরিমার পর ছানা পড়বে। ছানার পাঠ-

سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ ، وَتَعَالٰى جَدُّكَ ، وَلَا إِلٰهَ غَيْرُكَ

[সুনানে নাসাঈ, হাদীস : ৮৯৯]

সূরা ফাতেহা : ছানা শেষে আউযুবিল্লাহ  ও বিসমিল্লাহ পড়বে। এরপর সূরা ফাতেহা পড়বে।  

ফরয নামাযের প্রথম দুই রাকাতে এবং ওয়াজিব-নফল-সুন্নত নামাযের প্রতি রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়া ওয়াজিব। ফরয নামাযের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়া সুন্নত। 

সূরা ফাতেহা পড়ার উপরোক্ত বিধান কেবল সে ব্যক্তির জন্যে, যে একাকী কিংবা ইমাম হিসেবে নামায পড়ছে। কিন্তু যারা মুকতাদি, ইমামের পেছনে নামায পড়ছে তারা শুধু ছানা পড়েই ক্ষান্ত থাকবে। ইমাম জোরে কিংবা আস্তে যেভাবেই কেরাত পড়ুক, মুকতাদি কোনো অবস্থাতেই সূরা ফাতেহা কিংবা অন্য কোনো সূরা পড়বে না। বরং ইমামের কেরাত শুনতে পেলে মনোযোগ দিয়ে শুনবে, অন্যথায় চুপ থাকবে। 

আমীন বলা : সূরা ফাতেহা শেষে আমীন বলা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। ইমাম-মুকতাদি ও একাকী নামায আদায়কারী সকলেই আস্তে আস্তে আমীন বলবে। 

অন্য সূরা মিলানো : ফরয নামাযের প্রথম দুই রাকাতে এবং ওয়াজিব নফল ও সুন্নত নামাযের প্রতি রাকাতেই সূরা ফাতেহার পর অন্য যে কোনো সূরা মিলাবে। তবে ফরয নামাযের তৃতীয় ও চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতেহার পর অন্য সূরা পড়বে না। 

একটি সতর্কতা : নামাযে জিহবা ও ঠোঁট নাড়িয়ে উচ্চারণ করে কেরাত পড়া আবশ্যক। কেউ কেউ মুখে উচ্চারণ করে পড়ার পরিবর্তে মনে মনে পড়ার কল্পনা করে । এমন করলে নামায হবে না।

রুকুতে

তাকবির বলা : সূরা মিলানো শেষে ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে বলতে রুকুতে যাবে।

পিঠ সোজা রাখা : রুকুতে শরীরের উপরের অংশ এমনভাবে ঝুঁকিয়ে দেবে, যাতে ঘাড় পিঠ ও মাথা এক বরাবর থাকে। এর চেয়ে বেশিও ঝুঁকাবে না, এর চেয়ে কমও নয়। ঘাড় এত বেশি ঝুঁকাবে না, যাতে চিবুক বুকের সাথে লেগে যায়। আবার এমন উপরেও রাখবে না যাতে মাথা কোমর থেকে উঁচুতে থাকে। বরং ঘাড় পিঠ ও মাথা বরাবর থাকবে। 

রুকুর পদ্ধতি : রুকুতে দুই হাতের আঙ্গুলগুলো ফাঁক ফাঁক করে ডান হাত দিয়ে ডান হাঁটু আর বাম হাত দিয়ে বাম হাঁটু ধরে রাখবে। হাত ও পা থাকবে সোজা। কনুই ও হাঁটু ভেঙে রাখবে না।

তাসবিহ পাঠ : প্রতি রুকুতে سبحان ربي العظيم পাঠ করুন। অন্তত তিনবার পড়লে  ভালো।

ধীরস্থিরভাবে রুকু করা : রুকু-সিজদা অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে আদায় করতে হবে। 

রুকু থেকে দাঁড়ানোর সময়

রুকু থেকে দাঁড়ানোর পদ্ধতি : سمع الله لمن حمده বলতে বলতে শান্তভাবে রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়াবে। এরপর  স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে ربنا لك الحمد বলবে।

একটি সতর্কতা : কেউ কেউ সোজা হয়ে দাঁড়ানোর পরিবর্তে দাঁড়ানোর দিকে একটু ইশারা করে শরীর ঝুঁকে থাকা অবস্থায়ই সিজদায় চলে যায়। এমন করলে নামায দ্বিতীয়বার পড়া ওয়াজিব হবে। তাই এ থেকে যত্নের সাথে বিরত থাকতে হবে। পুরো শরীর স্থিরভাবে সোজা না করে সিজদা করা যাবে না।

সিজদায় যাওয়ার সময়

আগে হাঁটু রাখা : সিজদায় যাওয়ার সময় প্রথমে হাঁটু বাকিয়ে মাটিতে রাখবে, এরপর হাত ও পরে চেহারা রাখবে। 

তাকবির বলা : আল্লাহু আকবার বলতে বলতে সিজদায় যাবে।

সিজদায়

সিজদার পদ্ধতি : সিজদায় কপাল ও নাক ভালোভাবে মাটিতে রাখবে। চেহারা দুই হাতের মাঝে এমনভাবে রাখবে, যাতে চেহারার সাথে লেগে না থাকে এবং দুই হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলির মাথা কানের লতির সামনে থাকে। উভয় বাহু পাঁজর থেকে দূরে এবং কনুই মাটি থেকে উঁচুতে রাখবে।

সাত অঙ্গের উপর সিজদা : সাত অঙ্গের উপর ভর দিয়ে সিজদা করার কথা হাদীস শরীফে এসেছে- চেহারা (অর্থাৎ কপাল ও নাক), দুই হাতের তালু, দুই হাঁটু, দুই পায়ের পাতার প্রান্ত। 

পায়ের আঙ্গুল কিবলামুখী করে রাখা : সিজদার সময় পায়ের আঙ্গুলগুলো যথাসম্ভব কিবলামুখী করে রাখবে। দুই পা সোজা রেখে মিলিয়ে রাখবে। তবে ফাঁকা রাখলেও সমস্যা নেই।

তাসবিহ পড়া : প্রতি সিজদায়  سبحان ربي الأعلى পড়বে। অন্তত তিনবার পড়া ভালো।

স্থিরতা অবলম্বন করা : রুকুর মতো সিজদাও ধীরস্থিরভাবে আদায় করতে হবে। 

একটি সতর্কতা : সিজদায় পায়ের আঙ্গুল জমিনে লাগিয়ে রাখতে হবে। সিজদায় গিয়ে পা নিয়ে খেলা করা কিংবা পা জমিন থেকে ওপরে তুলে রাখা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। এ থেকে বিরত থাকতে হবে।

দুই সিজদার মাঝে

বসার পদ্ধতি : ‘আল্লাহু আকবার’ বলতে বলতে প্রথম সিজদা থেকে উঠে সোজা হয়ে বসবে। বসার সময় বাম পা বিছিয়ে এর উপর বসবে। ডান পা এমনভাবে খাড়া করে রাখবে, যাতে এর আঙ্গুলগুলো কেবলামুখী থাকে। কেউ কেউ দুই পা খাড়া রেখে পায়ের গোড়ালির উপর বসে। এটা সঠিক পদ্ধতি নয়। 

সম্পূর্ণ সোজা হয়ে বসবে। এভাবে না বসে কেবল সামান্য মাথা তুলে আবার সিজদায় চলে যাওয়া গোনাহ। এমনটি করলে নামায পুনরায় আদায় করা ওয়াজিব হবে।

দোয়া পড়া : দুই সিজদার মাঝে এই দোয়া পড়া যেতে পারে-

اللّهُمّ اغْفِرْ لِي  وارْحمْنِي ، واجْبُرْنِي ، واهْدِنِي ، وارْزُقْنِي 

অথবা

اللّهُمّ اغْفِرْ لِى وارْحمْنِى وعَافِنِى واهْدِنِى وارْزُقْنِى 

অথবা

رَبّ اغْفِرْ لِى رَبّ اغْفِرْ لِى 

দ্বিতীয় সিজদা এবং তা থেকে ওঠা

প্রথম সিজদার মতোই দ্বিতীয় সিজদা আদায় করবে। যে কোনো নামাযের প্রতি রাকাতে দুটি সিজদা করা ফরয।

দ্বিতীয় সিজদা থেকে ওঠার পদ্ধতি : প্রথম রাকাত শেষে দ্বিতীয় সিজদা থেকে ওঠার সময় প্রথমে চেহারা, পরে হাত এবং সবশেষে হাঁটু ওঠাবে। এসময় দুই হাত হাঁটুতে রেখে মাটিতে ভর না দিয়ে পায়ের পাতায় ভর দিয়েই দাঁড়িয়ে যাবে।

প্রথম রাকাতের পর বৈঠক নেই : প্রথম রাকাতের পর সোজা দাঁড়িয়ে যেতে হবে।  এসময় বসার নিয়ম নেই।  

পরবর্তী রাকাত : পরবর্তী প্রতিটি রাকাতের কিয়াম-রুকু-সিজদা সবকিছু প্রথম রাকাতের মতোই হবে। তবে সূরা ফাতেহার পূর্বে ছানা ও আউযুবিল্লাহ পড়তে হবে না। শুধু বিসমিল্লাহ বলে সূরা ফাতেহা পড়া শুরু করবে।

বৈঠকের সময়

বসার পদ্ধতি : দুই সিজদার মাঝে যেভাবে বসার কথা বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ও শেষ রাকাতের পর তাশাহহুদের জন্যে সেভাবেই বসবে। 

তাশাহহুদ : প্রত্যেক নামাযের প্রতিটি বৈঠকেই তাশাহহুদ পড়তে হবে। তাশাহহুদের প্রসিদ্ধ ও বিশুদ্ধতম বর্ণনা নিম্নরূপ-

اَلتَّحِيَّاتُ لِلّٰهِ، وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ، اَلسَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلٰى عِبَادِ اللّٰهِ الصَّالِحِيْنَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا اللّٰهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ

আঙ্গুল দিয়ে ইশারা : আততাহিয়্যাতু পড়ার সময় যখন اَشْهَدُ اَنْ لَّا اِلٰهَ  (আশহাদু আল্লা ইলাহা) আসবে, তখন শাহাদাত আঙ্গুল উঠিয়ে ইশারা করবে। যখন اِلّا الله (ইল্লাল্লাহ) বলবে, তখন আঙ্গুল নামিয়ে নেবে। [ই‘লাউস সুনান, ৩/১১০]

আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করার পদ্ধতি এমন : প্রথমে মধ্যমা আঙ্গুলি ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে বৃত্ত বানিয়ে নেবে। কনিষ্ঠাঙ্গুলি ও এর সাথের আঙ্গুলটি গুটিয়ে রাখবে। শাহাদাত আঙ্গুল এমনভাবে ওঠাবে, যেন তা কেবলার দিকে ঝুঁকে থাকে। আকাশের দিকে সম্পূর্ণ সোজা করে রাখবে না। اِلّا الله (ইল্লাল্লাহ) বলার সময় আঙ্গুল নামিয়ে নেবে। তবে অন্যান্য আঙ্গুলগুলো বৈঠকের শেষ পর্যন্ত আগের মতোই গুটানো অবস্থায় রেখে দেবে। 

দরুদ শরীফ পড়া : প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহহুদ পড়েই উঠে যেতে হবে। আর শেষ বৈঠকে তাশাহহুদের পর দরুদ শরীফ পড়া সুন্নত। সাহাবীগণের আবেদনের প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে নিম্নোক্ত দরুদটি শিখিয়ে দিয়েছিলেন-

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى مُحَمَّدٍ ، وَّعَلٰى اٰلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلّيْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ ، وَعَلٰى اٰلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ. اَللّٰهُمَّ بَارِكْ عَلٰى مُحَمَّدٍ ، وعَلٰى اٰلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلٰى إِبْرَاهِيْمَ ، وعَلٰى اٰلِ إِبْرَاهِيْمَ إِنَّكَ حَمِيْدٌ مَّجِيْدٌ

[সহীহ বুখারী, হাদীস : ৩৩৭০]

এই দরুদকে দরুদে ইবরাহীমী বলা হয়। সহীহ হাদীসে দরুদের অন্যান্য পাঠও বর্ণিত হয়েছে। যে কোনো পাঠ পড়া যেতে পারে।

দুআ করা : দরুদ শরীফের পর সালাম ফেরানোর আগে দুআ করার কথা হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে। এ সময় পড়ার জন্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আবু বকর রা.কে নিম্নোক্ত দুআটি শিখিয়ে দিয়েছিলেন : 

اَللّٰهُمَّ إِنّيْ ظَلَمْتُ نَفْسِيْ ظُلْمًا كَثِيْرًا ، وَلَا يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ إِلَّا أَنْتَ فَاغْفِرْ لِيْ مَغْفِرَةً مِّنْ عِنْدِكَ وَارْحَمْنِيْ إِنَّكَ أَنْتَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তো অবশ্যই আমার নিজের ওপর অনেক জুলুম করেছি। আর আপনি ছাড়া গোনাহ ক্ষমা করার কেউ নেই। তাই আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাকে ক্ষমা করে দিন এবং আমাকে দয়া করুন। নিশ্চয়ই আপনি মহাক্ষমাশীল, অতি দয়ালু। [সহীহ বুখারী, হাদীস : ৮৩৪]

দুআটি আমাদের সমাজে ‘দুআয়ে মাছুরা’ নামে পরিচিত। ‘মাছুরা’ মানে (কুরআন-হাদীসে) বর্ণিত। সে হিসেবে শুধু এ দুআটি নয়, বরং হাদীসে বর্ণিত যে কোনো দুআই ‘মাছুরা’। হাদীসে আরও দুআ বর্ণিত রয়েছে, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সময় নিজে পড়েছেন কিংবা অন্যদের পড়তে বলেছেন। তেমনি আরও দুটি দুআ : 

  اَللّٰهُمَّ اِنِّـيْ اَعُوْذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ ، وَاَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيْحِ الدَّجَّالِ  ، وَاَعُوْذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَفِتْنَةِ الْمَمَاتِ ، اَللّٰهُمَّ اِنِّـيْ اَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْمَاْثَمِ وَالْمَغْرَمِ

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি কবরের আজাব থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। মাসীহ দাজ্জালের ফেতনা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। জীবন-মরনের ফেতনা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে পাপ ও ঋণের বোঝা থেকেও আশ্রয় চাই। [সহীহ বুখারী, হাদীস : ৮৩২]

اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لِـىْ مَا قَدَّمْتُ وَمَا اَخَّرْتُ وَمَا اَسْرَرْتُ وَمَا اَعْلَنْتُ وَمَا اَسْرَفْتُ وَمَا اَنْتَ اَعْلَمُ بِهٖ مِنِّـىْ اَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَاَنْتَ الْمُؤَخِّرُ لَا اِلٰهَ اِلَّا اَنْتَ

অর্থ : হে আল্লাহ! আপনি আমার সকল গোনাহ ক্ষমা করে দিন—যে সকল গোনাহ আমি আগে করেছি, যা আমি পরে করেছি, যা গোপনে করেছি, যা প্রকাশ্যে করেছি, যে সীমালঙ্ঘন আমি করেছি  এবং যে গোনাহের কথা আপনি আমার চেয়ে ভালো জানেন। আপনিই আগে বাড়িয়ে দেন, আপনি পেছনেও হটিয়ে দেন। আপনি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। [সহীহ মুসলিম, হাদীস : ৭৭১]

সালাম ফেরানোاَلسّلَامُ عَلَيْكُمْ ورَحْمَةُ اللّٰهِ বলতে বলতে প্রথমে ডান দিকে এবং পরে বাম দিকে সালাম ফেরাবে। সালামের মধ্য দিয়েই নামায শেষ হয়ে যায়।

সালাম ফেরানোর পদ্ধতি : দুই দিকে সালাম ফিরানোর সময় এমনভাবে ডানে-বামে ঘাড় ঘোরাবে, যেন পেছনের কাতারে যে আছে সে আপনার গাল দেখতে পায়।

মাওলানা শিব্বীর আহমদ

উসতাযুল হাদীস, জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া ঢাকা, মোহাম্মদপুর। মাসিক আলকাউসারসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করেন। তাঁর লিখিত বইও পাঠক মহলে নন্দিত হয়েছে। তিনি মুসলিমস ডে অ্যাপের শরয়ী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।

Comments (16)

  • Sakawat Hossainsays:

    November 22, 2023 at 10:11 AM

    আস সালামু আলাইকুম । তাশাহুদ পড়ার সময় আংগুল দিয়ে ইশারা করার পর আবার সব আংগুল বিছিয়ে রাখতে হবে না?

    • মাওলানা শিব্বীর আহমদsays:

      November 24, 2023 at 8:10 AM

      ওয়াআলাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ।
      না, ইশারা করার সময় আঙ্গুলগুলো যেভাবে থাকে, ইশারা করার পরও সেভাবেই রাখতে হবে। শুধু যে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা হয় তা নামিয়ে রাখতে হবে।

  • Md Abdullahsays:

    November 22, 2023 at 11:17 AM

    আসসালামু আলাইকুম
    ফরজ নামাজের ক্ষেত্রে যখন একা নামাজ পড়া হয়, তখন কি জোরে জোরে কেরাত পড়তে হবে।
    ফরজ নামাজ যখন একা একা পড়া হয় তখন কি নামাজের আগে একামত দিতে হবে ??

    • মাওলানা শিব্বীর আহমদsays:

      November 24, 2023 at 8:25 AM

      ওয়াআরাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ। একা নামাজে জোরে কেরাত পড়া জরুরি নয়। একামত দেয়াও জরুরি নয়, তবে দিলে তো অবশ্যই ভালো।

  • Shafiqul Islamsays:

    November 22, 2023 at 12:57 PM

    ৩রাকাত ও ১ রাকাত বিতর সালাতের সহী পদ্ধতী জানালে উপকৃত হইতাম , ধন্যবাদ

    • মাওলানা শিব্বীর আহমদsays:

      November 24, 2023 at 8:23 AM

      বিতির নামাজ ৩ রাকাত; ১ রাকাত নয়। সহীহ হাদীসের আলোকে ফিকহে হানাফীতে বিতির নামাজের অনুসৃত নিয়ম হচ্ছে, দুই রাকাত পড়ে বৈঠক করে তাশাহহুদ পড়তে হবে। এরপর দাঁড়িয়ে তৃতীয় রাকাত পড়তে হবে। তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহা ও অন্য আরেকটা সূরা পড়ার পর তাকবীর বলে কান পর্যন্ত হাত উঠিয়ে আবার হাত বাঁধতে হবে। এরপর দুআয়ে কুনুত পড়তে হবে। এরপর রুকু করে স্বাভাবিক নিয়মে নামাজ শেষ করতে হবে।

  • আব্দুল করিমsays:

    December 15, 2023 at 11:35 AM

    আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, হুজুর আমি জানতে চাই, চার রাকাত ফরজ নামাজের দুই রাকার জামাত যদি আমার ছুটে যায়, তাহলেআমি যে শষের দুই রাকাত একা পড়বো, সে দুই রাকাতে সুরা ফাতেহার পর কি কোন সুরা মেলাতে হবে, না-কি শুধু সুরা ফাতেহা পড়ে রুকু-সেজদায় যেতে হবে?

    • Muslims Day Desksays:

      December 15, 2023 at 11:10 PM

      সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা মেলাতে হবে।
      কারণ আপনার নামাজের প্রথম ২ রাকাত ছুটে গেছে। ১ম দুই রাকাতে ফাতিহার সাথে সূরা মিলাতে হয়।
      তাই আপনি ইমামের সালাম ফেরানোর পর দাঁড়িয়ে যখন ছুটে যাওয়া ২ রাকাত আদায় করবেন, তখনও সূরা ফাতিহার সাথে সূরা মিলাতে হবে।

  • আলাল মিয়াsays:

    March 27, 2024 at 4:36 AM

    আসসালামু আলাইকুম। তাকবিরে তাহরিমা বলে হাত কানের লতি পর্যন্ত উঠানোর সময় হাতের আঙ্গুলগুলো কি ফাঁকা থাকবে নাকি মিলানো থাকবে??

    • মাওলানা শিব্বীর আহমদsays:

      March 27, 2024 at 11:42 PM

      ওয়াআলাইকুমুস সালাম। বিশেষ কোনো নিয়ম নেই। স্বাভাবিকভাবে রাখুন।

  • A Muhammadsays:

    August 13, 2024 at 1:19 AM

    আসসালামু আলাইকুম হুজুর, ফজর, মাগরিব বা এশার এমন ফরজ নামাজ যদি কাযা হয়ে যায় তাহলে আমাকে কি ইমাম সাহেবের মতো জোরে কিরাত এবং একামত দিতে হবে জানালে উপকৃত হতাম।

    • মাওলানা শিব্বীর আহমদsays:

      September 16, 2024 at 9:11 AM

      ওয়াআলাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ
      কাযা হওয়া নামাজে কেরাত মনে মনেই পড়ুন, ইকামতও লাগবে না।

  • A Muhammadsays:

    August 13, 2024 at 1:23 AM

    ফজর,মাগরিব,এশার নামাজে যেখানে জোরে কিরাত পড়া হয়, প্রথম ১/২ রাকাত ছুটে গেলে আমাকেও কি দাঁড়িয়ে জোরে কিরাত পড়তে হবে না মনে মনে পড়লেই হবে?

  • মুসলিমsays:

    December 12, 2024 at 5:27 AM

    আসসালামু আলাইকুম আমরা মেয়েরা যে ভাবে সিজদাহ করি,,,, ওটাতে কি হাটু দিয়ে সিজদাহ করা হয়???
    (

    • মাওলানা শিব্বীর আহমদsays:

      January 22, 2025 at 5:24 PM

      ওয়াআলাইকুমুস সালাম ওয়ারাহমাতুল্লাহ
      মেয়েদের নামাজের পদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন। এ ভিন্নতা হাদীসের আলোকেই প্রমাণিত। এখানে সাত অঙ্গের ওপর যে সিজদা করার কথা বলা হয়েছে, এটা মুলত পুরুষদের। দ্বিতীয় কথা হলো, মেয়েরাও তো সিজদার সময় হাঁটু মাটিতেই রাখে। তাই তাদের সিজদাও হাঁটু দিয়েই করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

- আমি মুসলিমস ডে এর কমেন্টের নীতিমালার সাথে একমত হয়ে পোস্ট করছি

সাইট হিট কাউন্টার

সর্বমোট পোস্ট ভিউ: ২,৯৮৭,১৪১
<p>পোস্ট কপি করার অপশন বন্ধ রাখা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পোস্টের লিংক কপি করুন</p>