Post Updated at 24 Nov, 2023 – 10:09 AM

ব্যান্ডেজের ওপর ওজু-গোসল

মাসআলা : ওজুর কোনো অঙ্গ যদি ব্যান্ডেজ করা থাকে, তা পুরো অঙ্গেই থাকুক কিংবা আংশিক, প্রথমত দেখতে হবে, ওজুর সময় সে ব্যান্ডেজ খোলা যায় কিনা। যদি খুলে পানিতে ধুয়ে নিলে কোনো সমস্যা না হয় তাহলে তা খুলে ওজু করতে হবে। খোলা গেলেও যদি ক্ষতস্থানটি পানিতে ভেজানো না যায়, তাহলে সরাসরি ক্ষতস্থানে মাসেহ করতে হবে। আর যদি সহজে খোলা না যায়, কিংবা খোলা গেলেও ক্ষতস্থানে মাসেহ করা সম্ভব না হয় তাহলে ব্যান্ডেজের উপরেই মাসেহ করবে। ব্যান্ডেজের বাইরের অংশ যথাসম্ভব ধুয়ে নিতে হবে।

মাসআলা : পুরো ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করাই ভালো। যদি অর্ধেকের বেশি অংশে মাসেহ করা হয় তাহলেও জায়েজ হবে। এর চেয়ে কম করলে জায়েজ হবে না।

মাসআলা : ব্যান্ডেজ লাগানোর সময় ওজু থাকুক কিংবা না থাকুক, সর্বাবস্থায়ই ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করা যাবে।

মাসআলা : ব্যান্ডেজ লাগানো অবস্থায় গোসলের বিধান ওজুর বিধানের মতোই। প্রথমত ব্যান্ডেজ খুলে গোসল করা যায় কিনা দেখতে হবে। তা সম্ভব না হলে সরাসরি ক্ষতস্থানটি মাসেহ করে অবশিষ্ট শরীর ধুয়ে নিতে হবে। আর যদি সরাসরি ক্ষতস্থানে মাসেহ করাও ক্ষতিকর হয় তাহলে ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করে অবশিষ্ট শরীর পানিতে ধুয়ে নিতে হবে।

মাসআলা :  প্রয়োজনে ক্ষতস্থানের সঙ্গে এতটুকু ভালো জায়গাও মাসেহ করা যাবে, যা ধুতে গেলে ক্ষতস্থানের ক্ষতি হতে পারে। তবে ভালো জায়গা ধুয়ে নিলে যদি ক্ষতস্থানের কোনো ক্ষতি না হয় তাহলে ধুয়েই নিতে হবে।

মাসআলা : যদি শরীরের অধিকাংশ জায়গায় ব্যান্ডেজ থাকে, যা খোলা সম্ভব নয় কিংবা পানি ব্যবহার করা ক্ষতিকর হয়, তাহলে গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করতে পারবে।

ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ কখন ভেঙ্গে যায়

সুস্থতার পূর্বে যদি ব্যান্ডেজটি খুলে যায়, তাহলে মাসেহ ভাঙ্গবে না। আবার ব্যান্ডেজটি লাগিয়ে নিলেই হবে। আর যদি সুস্থ হওয়ার পর খোলে এবং ব্যান্ডেজটি আবার বাঁধার প্রয়োজন না থাকে, তাহলে মাসেহ ভেঙ্গে যাবে। তখন ওজু থাকলে শুধু ব্যান্ডেজের জায়গাটি ধুয়ে নিলেই হবে।

সংযোজিত অঙ্গের ওজু-গোসল

অনেক সময় শরীরে কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন করা হয়। সেটি যদি এমনভাবে লাগানো হয় যা অপারেশন ছাড়া সহজে খোলা যায় না, তাহলে তা মূল অঙ্গের মতোই বিবেচিত হবে। মূল অঙ্গের যে বিধান, এমন কৃত্রিম অঙ্গেরও একই বিধান। আর যদি কৃত্রিম অঙ্গটি সহজেই খুলে রাখা যায়, তাহলে ওজু-গোসলের সময় তা খুলেই নিতে হবে।

কর্তিত অঙ্গের পবিত্রতা

কোনো কারণে যদি কারও হাতের কনুইসহ কিংবা পায়ের টাখনুসহ অপারেশন করে কেটে ফেলা হয় তাহলে তো ওজু-গোসলের সময় তা আর ধোয়ার সুযোগই থাকল না। অবশিষ্ট অঙ্গগুলো ধুয়ে নিলেই হবে। আর যদি উক্ত অঙ্গগুলোর কিছু অংশ বাকি থাকে, যেমন কারও এক-দুটি আঙ্গুল কেটে ফেলা হলো, তাহলে তাকে ঐ হাতের বা পায়ের যতটুকু বাকি আছে ততটুকুও নিয়মমতো ধুয়ে নিতে হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

- আমি মুসলিমস ডে এর কমেন্টের নীতিমালার সাথে একমত হয়ে পোস্ট করছি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ
ক্যাটাগরি সমূহ
ট্যাগ সমূহ
error: অনুগ্রহ করে লেখাটি কপি করবেন না। লিংক শেয়ার করুন। ধন্যবাদ