Post Updated at 24 Nov, 2023 – 9:57 AM

ওজু করার ধারাবাহিক পদ্ধতি

  1. বিসমিল্লাহ বলে ওজু শুরু করবে।
  2. প্রথমে উভয় হাতের কব্জি পর্যন্ত তিনবার করে ধুইবে।
  3. এরপর তিনবার কুলি করবে এবং মেসওয়াক করবে। যদি মেসওয়াক না থাকে তাহলে মোটা কাপড় কিংবা আঙ্গুল দিয়ে হলেও দাঁত পরিষ্কার করবে।
  4. গরগরা করবে। তবে রোজা অবস্থায় গরগরা না করাই ভালো।
  5. এরপর তিনবার নাকে পানি দেবে। বাম হাত দিয়ে নাক পরিষ্কার করবে।
  6. এরপর তিনবার মুখ ধুইবে। ভ্রুর নীচে কিংবা কানের লতির সামনে শুকনো থেকে যেতে পারে। এ জায়গাগুলো ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
  7. এরপর ডান হাত কনুইসহ তিনবার ধুইবে।
  8. এরপর বাম হাত।
  9. উভয় হাত ধোয়ার পর এক হাতের আঙ্গুল আরেক হাতের আঙ্গুলের মাঝে প্রবেশ করিয়ে খেলাল করবে। হাতের আংটি চুরি ইত্যাদি থাকলে এগুলো নাড়িয়ে ভালোভাবে ভেতরে পানি পৌঁছাতে হবে।
  10. এরপর সমস্ত মাথা একবার মাসেহ করবে।
  11. এরপর কান মাসেহ করবে। শাহাদাত (তর্জনি) আঙ্গুল দিয়ে কানের ভেতরের দিক আর বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে কানের বাইরের দিক মাসেহ করতে হয়।
  12. এরপর উভয় হাতের পিঠ দিয়ে ঘাড় মাসেহ করবে।
  13. সবশেষে তিনবার টাখনুসহ ডান পা এবং তিনবার টাখনুসহ বাম পা ধুইতে হবে।
  14. সবশেষে একবার কালেমায়ে শাহাদাত পড়বে। ওজুর শেষে কালেমায়ে শাহাদাত পড়া সুন্নত।

ওজু সম্পর্কে কয়েকটি মাসআলা

ওজুর শুরুতে আউযুবিল্লাহ পড়া

ওজুর শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা সুন্নত। কেউ চাইলে আউযুবিল্লাহও পড়তে পারে।

ধারাবাহিকতা রক্ষা করা

উল্লিখিত এ ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ওজু করা সুন্নত। যদি কেউ এ ধারাবাহিকতা রক্ষা না করে ওজু করে, যেমন, আগে কনুই পর্যন্ত হাত ধোয়ার পর মুখ ধুইল অথবা পা ধোয়ার পর মাথা মাসেহ করল, তাহলে যদিও ওজু হয়ে যাবে, কিন্তু এমন করা সুন্নতের পরিপন্থী।

এক অঙ্গ শুকানোর পূর্বে আরেক অঙ্গ ধোয়া

অঙ্গ ধোয়ার পর তা শুকিয়ে যাওয়ার পূর্বেই আরেক অঙ্গ ধোয়া উচিত। এর ব্যতিক্রম হলে ওজু হয়ে যাবে ঠিক, তবে সুন্নতের খেলাপ হবে।

ফরজ অঙ্গগুলোতে পানি পৌঁছানো জরুরি

মাসআলা : ওজুতে যে অঙ্গগুলো ধোয়া ফরজ, সেখানে যদি এমন কোনো কিছু লেগে থাকে, যার কারণে চামড়ায় পানি পৌঁছে না, যেমন রং, তাহলে ওজু হবে না। ওজু করার পর যদি হাতে পায়ে বা মুখে লেগে থাকা কোনো রংয়ের ফোটা বা এমন কোনো  কিছু দেখা যায়, তাহলে তা উঠিয়ে ঐ জায়গাটুকু ধুয়ে নিলেই হবে। অবশ্য নখের ভেতর স্বাধারণত যে ময়লা থাকে, একারণে ওজুতে কোনো সমস্যা হবে না।

মাসআলা : হাতের আংটি চুরি ইত্যাদির কারণেও যদি চামড়া না ভেজে, তাহলেও ওজু হবে না।

মাসআলা : নখে যদি নেইল পলিশ দেয়া থাকে তাহলে ওজু হবে না। তবে মেহেদি দেয়া থাকলে কোনো সমস্যা নেই।

দাড়ি সংক্রান্ত বিধান

মাসআলা : কারও দাড়ি যদি এত ঘন হয়, যার ভেতর দিয়ে চেহারার চামড়া দেখা যায় না, তাহলে সেসব দাড়ির নিচের চামড়া ধোয়া জরুরি নয়। কিন্তু যদি দাড়ি পাতলা হয়, তাহলে চেহারার চামড়ায় পানি পৌঁছাতে হবে।

মাসআলা : দাড়ি যদি ঘন হয় তাহলে দাড়ির নিচের চামড়া ধোয়া জরুরি নয় ঠিক, কিন্তু চেহারার সীমার মধ্যে যতটুকু দাড়ি আছে সেগুলো যেন ধোয়া হয় সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

মাসআলা : দাড়ি যদি পাতলা হয় তাহলে চামড়ায় পানি পৌঁছাতে হবে, চেহারায় থাকা দাড়িগুলো ধুইতে হবে, এমনকি চেহারার বাইরে থাকা দাড়িও ধুয়ে নিতে হবে।

ওজুর অঙ্গগুলো কতবার ধুইতে হয়

মাসআলা : মুখমণ্ডল, দুই হাত কনুই পর্যন্ত এবং দুই পা টাখনু পর্যন্ত একবার করে ধোয়া ফরজ আর তিনবার করে ধোয়া সুন্নত। এছাড়া ওজুর শুরুতে কব্জি পর্যন্ত দুই হাত ধোয়া, কুলি করা ইত্যাদিও তিনবার করে করা সুন্নত। তবে এক-দুইবার করে করলেও ওজু হয়ে যাবে।

মাসআলা : সর্বোচ্চ তিনবার করে ধোয়াই সুন্নত। এর বেশি ধোয়া উচিত নয়, মাকরুহ।

প্রতিটি অঙ্গ ভালোভাবে ধোয়া

মাসআলা : ওজুতে প্রতিটি অঙ্গই যেন ভালোভাবে ধোয়া হয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। বিশেষত শীতকালে যখন হাত-পায়ের চামড়া শুষ্ক থাকে, তখন যত্নের সঙ্গে ওজু না করলে কোথাও কোথাও শুকনো থেকে যেতে পারে। বিশেষত পায়ের গোড়ালি। তাই শীতকাল হোক আর গ্রীষ্মকাল হোক, যত্নের সঙ্গে পূর্ণরূপে ওজু করতে হবে।

পানির অপচয় না করা

মাসআলা : বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ওজুতে পানির অপচয় হয়। পানির অপচয় যেন না হয় সেদিকে যথাসম্ভব লক্ষ রাখতে হবে।

মাসআলা : সরাসরি পানির টেপ ছেড়ে কিংবা টিউবওয়েল চেপে ওজু করলে পানির অপচয় হওয়াটাই স্বাভাবিক। সেক্ষেত্রে কোনো পাত্রে, যেমন বদনা মগ বালতি ইত্যাদিতে পানি নিয়ে সেখান থেকে ওজু করলে এ অপচয় থেকে বাঁচা যায়।

পাত্রের ভেতর হাত ঢুকিয়ে ওজু করলে পানি নাপাক হয় কিনা

মগ বা বালতি থেকে বারবার হাতে পানি নিয়ে ওজু করলে অবশিষ্ট পানি নাপাক হয় না। এমন এক পাত্র থেকে একসঙ্গে একাধিক মানুষ কিংবা একজন ওজু করার পর অবশিষ্ট পানি দিয়ে আরেকজন ওজু করাতে কোনো সমস্যা নেই।

ওজুর পর গামছা ব্যবহার করা

ওজুর শেষে গামছা তোয়ালে ইত্যাদি দিয়ে শরীরের ভেজা অঙ্গগুলো মোছা জায়েজ।

এক ওজু দিয়ে একাধিক নামাজ

একবার ওজু করে নামাজ পড়ার পর পরবর্তী নামাজের সময় যদি ওজু থাকে তাহলে আগের ওজু দিয়েও নামাজ পড়া যাবে। এতে সমস্যা নেই। তবে প্রত্যেক নামাজ নতুন নতুন ওজু দিয়ে পড়া ভালো।

ওজু কখন মাকরুহ, কখন মুসতাহাব

মাসআলা : একবার ওজু করার পর সেই ওজু দিয়ে যদি এমন কোনো ইবাদত করা না হয় যা ওজু ছাড়া আদায় করা যায় না, যেমন নামাজ, তওয়াফ ইত্যাদি, তাহলে সেই ওজু থাকাবস্থায় দ্বিতীয়বার ওজু করা  মাকরুহ। আর যদি প্রথম ওজু দিয়ে দুই রাকাত নফল নামাজও পড়া হয় তাহলেও দ্বিতীয়বার ওজু করায় কোনো সমস্যা নেই। বরং ওজু করলেই বেশি সওয়াব পাওয়া যাবে।

ওজুর নিয়ত

মাসআলা : ওজু করার সময় মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করার কিছু নেই। মনে মনে ওজুর নিয়ত থাকেই। তবে ওজু শুরু করার সময়ই মন আল্লাহ তায়ালার দিকে রুজু হওয়া উচিত। মনে মনে চিন্তা করা উচিত, আল্লাহ তায়ালার সামনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার জন্যে কিংবা আল্লাহ তায়ালার পাক কালাম তেলাওয়াত করার জন্যে আমি ওজু করছি। যে উদ্দেশ্যে ওজু করা হচ্ছে, এভাবে সে উদ্দেশ্যটির কথা তখন চিন্তা করা যেতে পারে। এতে সহজেই ওজুর সৌন্দর্য ও ওজুর প্রতি যত্ন বেড়ে যেতে পারে।

মাসআলা : ওজু যে উদ্দেশ্যেই করা হোক, সে ওজু দিয়ে পরবর্তীতে অন্য সব আমলই করা যাবে। কুরআন তেলাওয়াত কিংবা জানাজার নামাজের জন্যে ওজু করলে সে ওজু দিয়ে ফরজ নামাজ পড়তেও কোনো সমস্যা নেই।

মাসআলা : এমনকি যদি নিয়ত ছাড়া এমনিতেই কেউ ওজুর অঙ্গগুলো ধুয়ে নেয় অথবা ভিজে যায়, তাহলেও তার ওজু হয়ে যাবে। এ ওজু দিয়েও সে নামাজ পড়তে পারবে। তবে ওজুর নিয়ত না করার কারণে ওজু করার সওয়াব পাবে না।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

- আমি মুসলিমস ডে এর কমেন্টের নীতিমালার সাথে একমত হয়ে পোস্ট করছি

সাম্প্রতিক পোস্ট সমূহ
ক্যাটাগরি সমূহ
ট্যাগ সমূহ
error: অনুগ্রহ করে লেখাটি কপি করবেন না। লিংক শেয়ার করুন। ধন্যবাদ